ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং বসবাসের উপযোগী একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় বা নগর ভবন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সবার কথা বাদ দিলেও, নিজের সন্তানের একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না যে তার সন্তান নোংরা, অস্বাস্থ্যকর বা জীবাণুযুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তানেরা কেবল বাড়ির ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা স্কুল, কলেজ এবং খেলার মাঠসহ শহরের নানা জায়গায় বিচরণ করে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকার নয়, বরং পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। তিনি আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তিকে যেকোনো পরিবর্তনের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না।

ঢাকা শহরের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্নতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এক দিনে বা সাত দিনে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব। তবে আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে বলেন, ষাট ও সত্তর দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও আবর্জনা ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতায় বর্তমানে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন যেখানে যাই, নিজে সমস্যা খুঁজি এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেই। আপনারাও যদি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন, তবে পরিবর্তন আসবেই। কাজের ক্ষেত্রে আত্ম সমালোচনা করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কাজের মান নিশ্চিত করতে নিজের ভূমিকার দিকেও নজর দিতে হবে। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে, আগের তুলনায় ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটি বড় কোনো সাফল্য না হলেও ইঙ্গিত দেয় যে সঠিক প্রচেষ্টায় পরিবর্তন সম্ভব। সড়কে সড়ক বিভাজক তৈরি কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলোর অবস্থার উন্নতির মতো উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নগর ভবন পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাতাসের গতিবেগ, বায়ুর মান, বন্যার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) হালনাগাদ ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন তিনি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিডিও চিত্রও দেখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী: স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দিলে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের

নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং বসবাসের উপযোগী একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় বা নগর ভবন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সবার কথা বাদ দিলেও, নিজের সন্তানের একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না যে তার সন্তান নোংরা, অস্বাস্থ্যকর বা জীবাণুযুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তানেরা কেবল বাড়ির ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা স্কুল, কলেজ এবং খেলার মাঠসহ শহরের নানা জায়গায় বিচরণ করে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকার নয়, বরং পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। তিনি আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তিকে যেকোনো পরিবর্তনের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না।

ঢাকা শহরের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্নতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এক দিনে বা সাত দিনে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব। তবে আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে বলেন, ষাট ও সত্তর দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও আবর্জনা ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতায় বর্তমানে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন যেখানে যাই, নিজে সমস্যা খুঁজি এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেই। আপনারাও যদি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন, তবে পরিবর্তন আসবেই। কাজের ক্ষেত্রে আত্ম সমালোচনা করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কাজের মান নিশ্চিত করতে নিজের ভূমিকার দিকেও নজর দিতে হবে। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে, আগের তুলনায় ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটি বড় কোনো সাফল্য না হলেও ইঙ্গিত দেয় যে সঠিক প্রচেষ্টায় পরিবর্তন সম্ভব। সড়কে সড়ক বিভাজক তৈরি কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলোর অবস্থার উন্নতির মতো উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নগর ভবন পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাতাসের গতিবেগ, বায়ুর মান, বন্যার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) হালনাগাদ ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন তিনি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিডিও চিত্রও দেখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।