ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান গত ২ অক্টোবর এই আবেদনটি করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেন। আইনজীবীর অভিযোগ, বিগত সরকার আমলে ছাত্র আন্দোলনের সময় এই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়ে অপরাধে জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্যমতে, তিনি শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কিত ভূমিকা রেখেছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতের কাছে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি দাবি করেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। শুনানির সময় অধ্যাপক জামাল উদ্দিন কাঠগড়ায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আদালতে দাখিল করা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও অর্থদাতারা সমবেত হয়েছিলেন। ওই সময় পুলিশের অভিযানে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ মার্চ গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি পল্টন থানার অপর একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

আপডেট সময় ১০:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান গত ২ অক্টোবর এই আবেদনটি করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেন। আইনজীবীর অভিযোগ, বিগত সরকার আমলে ছাত্র আন্দোলনের সময় এই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়ে অপরাধে জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্যমতে, তিনি শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কিত ভূমিকা রেখেছেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতের কাছে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি দাবি করেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। শুনানির সময় অধ্যাপক জামাল উদ্দিন কাঠগড়ায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আদালতে দাখিল করা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও অর্থদাতারা সমবেত হয়েছিলেন। ওই সময় পুলিশের অভিযানে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ মার্চ গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি পল্টন থানার অপর একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন।