ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন চেয়ারম্যানসহ ৯ ইউপি সদস্য ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

জলবায়ু পরিবর্তনে এভারেস্টে উঠছে বিষধর সাপ, আতঙ্কে পর্বতারোহীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাউন্ট এভারেস্টে নতুন আতঙ্কের নাম এখন বিষধর সাপ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন বিষাক্ত প্রজাতির সাপ। এতে উদ্বেগ বাড়ছে পর্বতারোহী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ সমতল এলাকা থেকে বিষধর সাপগুলো এখন ক্রমেই এভারেস্ট অঞ্চলের দিকে উঠে আসছে। ফলে এভারেস্ট সংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয় অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে এবং উচ্চাঞ্চলের পরিবেশ আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠছে। এতে সমতলের অনেক প্রাণী ও সরীসৃপের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল নতুন আবাসস্থল হিসেবে তৈরি হচ্ছে।

এভারেস্ট এলাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন সাপে কাটার রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে বিষধর সাপ কামড় দিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।

নেপালের জাতীয় বিষবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার শর্মা বলেন, “সমতল অঞ্চলের সাপগুলো এখন পাহাড়ি এলাকায় চলে আসছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্ভবত তাদের জন্য পাহাড়ের পরিবেশকে আরও উপযোগী করে তুলছে।”

তিনি জানান, আগে যেসব বিষধর সাপ মূলত নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের সমতল এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলো ধীরে ধীরে উচ্চতার দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।

গত বছর বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীরা মাউন্ট এভারেস্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ৯টিই ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর বিষধর সাপ রাজকীয় কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিমালয়ের আরও উঁচু এলাকায় বিষধর প্রাণীর উপস্থিতি বাড়তে পারে। ফলে পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে যুক্ত হতে পারে সাপের ঝুঁকিও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জলবায়ু পরিবর্তনে এভারেস্টে উঠছে বিষধর সাপ, আতঙ্কে পর্বতারোহীরা

আপডেট সময় ১১:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মাউন্ট এভারেস্টে নতুন আতঙ্কের নাম এখন বিষধর সাপ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন বিষাক্ত প্রজাতির সাপ। এতে উদ্বেগ বাড়ছে পর্বতারোহী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ সমতল এলাকা থেকে বিষধর সাপগুলো এখন ক্রমেই এভারেস্ট অঞ্চলের দিকে উঠে আসছে। ফলে এভারেস্ট সংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয় অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে এবং উচ্চাঞ্চলের পরিবেশ আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠছে। এতে সমতলের অনেক প্রাণী ও সরীসৃপের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল নতুন আবাসস্থল হিসেবে তৈরি হচ্ছে।

এভারেস্ট এলাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন সাপে কাটার রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে বিষধর সাপ কামড় দিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।

নেপালের জাতীয় বিষবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার শর্মা বলেন, “সমতল অঞ্চলের সাপগুলো এখন পাহাড়ি এলাকায় চলে আসছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্ভবত তাদের জন্য পাহাড়ের পরিবেশকে আরও উপযোগী করে তুলছে।”

তিনি জানান, আগে যেসব বিষধর সাপ মূলত নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের সমতল এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলো ধীরে ধীরে উচ্চতার দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।

গত বছর বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীরা মাউন্ট এভারেস্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ৯টিই ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর বিষধর সাপ রাজকীয় কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিমালয়ের আরও উঁচু এলাকায় বিষধর প্রাণীর উপস্থিতি বাড়তে পারে। ফলে পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে যুক্ত হতে পারে সাপের ঝুঁকিও।