আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সংসদ সদস্যরা (এমপি) পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি দেশ থেকে কানে ধরে বিদায় নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের যদি আশ্রয় প্রশ্রয় না থাকে, তাহলে দুর্নীতি বিদায় না নেওয়ার কারণ নাই। কেউ দায় দেন আমলাদেরকে, কেউ দায় দেন ব্যবসায়ীদেরকে, কেউ দায়ে দেন রাজনীতিবিদদের। আমি বলি দায় আমাদের সবার।
বিরোধী দলের এমপিদের আসনে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির। শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে মন্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এমপিরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিভেদ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যা নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান বিরোধীদলীয় নেতা।
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সরকারের অগ্রাধিকার- অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, দেখতে চাই ব্যাংক-বীমা, স্টক মার্কেট সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। কারো একার পক্ষে কোন খাতকে আলাদাভাবে দুর্নীতিমুক্ত করা অসম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে।
নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। তা স্মরণ করিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, এই ক্ষেত্রে যদি আমিও জড়িত থাকি ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
উন্নয়ন বরাদ্দের সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অংকের বরাদ্দ দেওয়া হলেও, বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি। বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই সুষম বণ্টনটাই প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়।
সরকারি অর্থ অপচয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজের নাম বসানোর সংস্কৃতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে আনে। কারো যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন। কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
স্পিকারের প্রতি সন্তুষ্ট নন জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে আপনাকে আরও সুদৃঢ় দেখতে চাই। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি ও নীতিমালার পরিপালন নিশ্চিত করতে স্পিকারকে একজন বলিষ্ঠ কমান্ডারের ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাশ হয়েছে, যা দেশের স্বার্থে, বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু বিস্তারিত আলোচনা ও অংশগ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে চললে সংসদে জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু হবে না।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, চারটি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চট্টগ্রামের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি। নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাজধানী ঢাকার নাজুক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে ড. শফিকুর রহমান সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর ময়লা ও ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়লা পানি অনেক সময় সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে মিশে দূষিত করছে। বিদেশি অতিথিরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা দেখেই তারা পুরো দেশ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পান।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য, কারণ ধর্ম মানুষকে শালীনতা, দেশপ্রেম ও সৎ হতে শেখায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়নে নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















