ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মঙ্গলে ম্যারাথন শেষ করল নাসার রোভার, মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল ছবি

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে সবুজ বিন্দুর মতো একটি ছবি ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে। এটি নাসার মঙ্গলযান বা ‘পারসিভারেন্স রোভার’-এর ছবি। মঙ্গলের বুকে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন (২৬.২ মাইল বা ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পথ) অতিক্রম করার ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার ঠিক এক দিন আগে এই ছবি তোলা হয়।

গত ১৩ জুন নাসার মহাকাশযান ‘মার্স রিকনেসান্স অরবিটার’ (মঙ্গলের কক্ষপথে ঘোরা মহাকাশযান)-এ থাকা শক্তিশালী ক্যামেরা হাইরাইজ এই ছবিটি তোলে। ছবিতে জেজেরো ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত)-এর পশ্চিমের এবড়োখেবড়ো জমিতে রোভারটি এবং তার ফেলে আসা চাকার দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই এলাকার নাম দিয়েছেন ‘আরবট’।

পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ জুন পারসিভারেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথনের সমান এই পথ অতিক্রম করে। রোভারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ০.১ মাইল। এত ধীর গতিতে চলেও এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে এর সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ বছর এবং চার মাস। এর আগে নাসার অপর যান ‘অপরচুনিটি’ এই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় নিয়েছিল ১১ বছর ২ মাস।

অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির পরিচালিত হাইরাইজ ক্যামেরাটি মঙ্গলের কক্ষপথে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরাগুলোর একটি। মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে শত শত মাইল ওপর থেকেও এটি এক মিটারের চেয়েও ছোট বস্তুর ছবি নিখুঁতভাবে তুলতে পারে। নাসা ছবিটির আরেকটি সংস্করণও প্রকাশ করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে রোভারটিকে একটি হলুদ বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিযানের গুরুত্ব: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলে প্রাচীন অণুজীব বা প্রাণের সন্ধান করতে এবং তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য পাথরের নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পারসিভারেন্স সেখানে অবতরণ করে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, রোভারটি এরই মধ্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেছে।

বর্তমানে এটি প্রায় ৪০০ কোটি বছরের পুরোনো পাথরের নমুনা সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের আদি ইতিহাস এবং সেখানে কোনো একসময় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার মতো পরিবেশ ছিল কি না, তা গভীরভাবে জানার এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মঙ্গলে ম্যারাথন শেষ করল নাসার রোভার, মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল ছবি

আপডেট সময় ০৭:৫০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

লাল গ্রহ মঙ্গলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে সবুজ বিন্দুর মতো একটি ছবি ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে। এটি নাসার মঙ্গলযান বা ‘পারসিভারেন্স রোভার’-এর ছবি। মঙ্গলের বুকে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন (২৬.২ মাইল বা ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পথ) অতিক্রম করার ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার ঠিক এক দিন আগে এই ছবি তোলা হয়।

গত ১৩ জুন নাসার মহাকাশযান ‘মার্স রিকনেসান্স অরবিটার’ (মঙ্গলের কক্ষপথে ঘোরা মহাকাশযান)-এ থাকা শক্তিশালী ক্যামেরা হাইরাইজ এই ছবিটি তোলে। ছবিতে জেজেরো ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত)-এর পশ্চিমের এবড়োখেবড়ো জমিতে রোভারটি এবং তার ফেলে আসা চাকার দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই এলাকার নাম দিয়েছেন ‘আরবট’।

পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ জুন পারসিভারেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথনের সমান এই পথ অতিক্রম করে। রোভারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ০.১ মাইল। এত ধীর গতিতে চলেও এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে এর সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ বছর এবং চার মাস। এর আগে নাসার অপর যান ‘অপরচুনিটি’ এই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় নিয়েছিল ১১ বছর ২ মাস।

অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির পরিচালিত হাইরাইজ ক্যামেরাটি মঙ্গলের কক্ষপথে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরাগুলোর একটি। মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে শত শত মাইল ওপর থেকেও এটি এক মিটারের চেয়েও ছোট বস্তুর ছবি নিখুঁতভাবে তুলতে পারে। নাসা ছবিটির আরেকটি সংস্করণও প্রকাশ করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে রোভারটিকে একটি হলুদ বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিযানের গুরুত্ব: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলে প্রাচীন অণুজীব বা প্রাণের সন্ধান করতে এবং তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য পাথরের নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পারসিভারেন্স সেখানে অবতরণ করে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, রোভারটি এরই মধ্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেছে।

বর্তমানে এটি প্রায় ৪০০ কোটি বছরের পুরোনো পাথরের নমুনা সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের আদি ইতিহাস এবং সেখানে কোনো একসময় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার মতো পরিবেশ ছিল কি না, তা গভীরভাবে জানার এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন।