ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মঙ্গলের উল্কাপিণ্ডে মিলল নতুন ধরনের শিলা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী মঙ্গল গ্রহের একটি উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি শিলার সন্ধান পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো মঙ্গলের নমুনায় শনাক্ত হয়েছে ‘গারনেট’ নামের একটি খনিজ। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার মঙ্গলের অতীত সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের পথ খুলে দিতে পারে।

গবেষণাটি করা হয়েছে ‘এনডব্লিউএ ৮১৭১’ নামে পরিচিত একটি মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ডের ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে। এটি বর্তমানে কানাডার রয়্যাল অন্টারিও জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে। প্রথমে নমুনাটির রাসায়নিক গঠন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরনের আলোকরশ্মি বিশ্লেষণ যন্ত্র এবং ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন।

সেই পরীক্ষায় তারা গাঢ় লাল রঙের ‘গারনেট’ খনিজ শনাক্ত করেন। পৃথিবীতে এই খনিজ ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভূত্বকের গভীরে উচ্চ তাপমাত্রা, প্রচণ্ড চাপ এবং শিলা ও তরলের পারস্পরিক পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য জানতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষকদের ধারণা, গারনেটযুক্ত এই নতুন শিলা কয়েকশ কোটি বছর আগের মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক অবস্থার একটি অক্ষত দলিল। গবেষণায় অংশ নেওয়া পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস ডার্লিং বলেন, এই আবিষ্কার মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞানে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তবে বিজ্ঞানীরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। প্রধান গবেষক ব্রক বিশ্ববিদ্যালয়ের তানিয়া কিজোভস্কি বলেন, গারনেট সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ তাপ ও চাপে তৈরি হয়। মঙ্গলে এটি বিশাল কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাত বা ভূত্বকের নিচ থেকে গলিত শিলা ওপরে উঠে আসার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। আবার সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে, শিলাটি অন্য কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের মাধ্যমে মঙ্গলে পৌঁছেছিল।

শিলাটির প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে অক্সিজেনের সমস্থানিক (একই মৌলের ভিন্ন ভরের পরমাণু) পরীক্ষা করা হবে। গবেষণাটি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ভূ-রসায়নবিষয়ক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মঙ্গলের উল্কাপিণ্ডে মিলল নতুন ধরনের শিলা

আপডেট সময় ০৯:২০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী মঙ্গল গ্রহের একটি উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি শিলার সন্ধান পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো মঙ্গলের নমুনায় শনাক্ত হয়েছে ‘গারনেট’ নামের একটি খনিজ। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার মঙ্গলের অতীত সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের পথ খুলে দিতে পারে।

গবেষণাটি করা হয়েছে ‘এনডব্লিউএ ৮১৭১’ নামে পরিচিত একটি মঙ্গলীয় উল্কাপিণ্ডের ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে। এটি বর্তমানে কানাডার রয়্যাল অন্টারিও জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে। প্রথমে নমুনাটির রাসায়নিক গঠন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরনের আলোকরশ্মি বিশ্লেষণ যন্ত্র এবং ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করেন।

সেই পরীক্ষায় তারা গাঢ় লাল রঙের ‘গারনেট’ খনিজ শনাক্ত করেন। পৃথিবীতে এই খনিজ ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভূত্বকের গভীরে উচ্চ তাপমাত্রা, প্রচণ্ড চাপ এবং শিলা ও তরলের পারস্পরিক পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য জানতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষকদের ধারণা, গারনেটযুক্ত এই নতুন শিলা কয়েকশ কোটি বছর আগের মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক অবস্থার একটি অক্ষত দলিল। গবেষণায় অংশ নেওয়া পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস ডার্লিং বলেন, এই আবিষ্কার মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞানে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তবে বিজ্ঞানীরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। প্রধান গবেষক ব্রক বিশ্ববিদ্যালয়ের তানিয়া কিজোভস্কি বলেন, গারনেট সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ তাপ ও চাপে তৈরি হয়। মঙ্গলে এটি বিশাল কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাত বা ভূত্বকের নিচ থেকে গলিত শিলা ওপরে উঠে আসার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। আবার সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে, শিলাটি অন্য কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের মাধ্যমে মঙ্গলে পৌঁছেছিল।

শিলাটির প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে অক্সিজেনের সমস্থানিক (একই মৌলের ভিন্ন ভরের পরমাণু) পরীক্ষা করা হবে। গবেষণাটি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ভূ-রসায়নবিষয়ক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।