ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পৌঁছালেই পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে: ইসি বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা রাশিয়ার ডিআরসির কাছে করা বিসিবির আপিল বাতিল মধ্যরাতে বরিশালে আগুনে পুড়ল ৭ দোকান তাদের জনসমর্থনের জোয়ার দেখে,ভয় পেয়ে একটি বড় দল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে: নাহিদ ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড় ধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা,এটাকে হাইপার প্রোপাগান্ডা বলে : রিজভী আমরা কথা দিচ্ছি, জীবন যাবে কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না: জামায়াত আমির ‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মতোই নিপীড়িত কারেনরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নৃগোষ্ঠীদের একটি সংগঠন ‘কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ (কেএনইউ)। বর্তমানে রাখাইনে রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর হাতে যে ধরনের বর্বরতার শিকার হচ্ছে, কারেন জনগোষ্ঠীও ঠিক সেরকম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কেএনইউ প্রতিনিধিরা।

কেএনইউ এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্মা আমলে ‘ফোর-কাট পলিসির’ আওতায় সামরিক অভিযানে দুই লাখেরও বেশি কারেনকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে শরণার্থী হতে হয়েছিল।

‘ফোর-কাট পলিসি’ হলো কারেনদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা বার্মার সামরিক জান্তা সরকারের একটি নীতি। এর মানে হলো-চারটি জিনিস থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা- খাবার, তথ্য, ভবিষ্যতের জন্য প্রতিরোধ যোদ্ধা নিয়োগ ও সম্পদ। এসব থেকে বিচ্ছিন্ন করার ফলে কারেন এলাকাগুলোর গ্রামবাসীদের এমনিতেই জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যেতে হয়।

মূলত সত্তরের দশকে তৎকালীন বার্মার সামরিক বাহিনী এ নীতি তৈরি করে যার লক্ষ্য ছিল খাদ্য, সম্পদ বা অর্থ, তথ্য ও নতুন যোদ্ধা রিক্রুটের পথ যেভাবেই হোক বন্ধ করার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গড়ে উঠা সশস্ত্র মিলিশিয়াদের দমন করা। আরও বেশ কিছু নৃগোষ্ঠীর মতো কারেনদের সঙ্গে বার্মার সেনাবাহিনীর লড়াই চলেছে অনেকদিন। পরে ১৯৮৯ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এ সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি মিয়ানমার। অবশ্য কেএনইউ বলছে, তারা কারেন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন।

কেএনইউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। যেভাবে উত্তর রাখাইনের সংঘাত মোকাবেলা করা হচ্ছে সেটি কারেনদের ওপর ফোর-কাট নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী সামরিক কায়দায় অভিযানকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুই লাখ কারেনকে বাস্তুচ্যুত ও দেড় লাখ কারেনকে শরণার্থী হতে হয়েছিল।

রাখাইনে গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের নামে ভয়াবহ নির্যাতন নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিযে এসে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মতোই নিপীড়িত কারেনরা

আপডেট সময় ০১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের নৃগোষ্ঠীদের একটি সংগঠন ‘কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ (কেএনইউ)। বর্তমানে রাখাইনে রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর হাতে যে ধরনের বর্বরতার শিকার হচ্ছে, কারেন জনগোষ্ঠীও ঠিক সেরকম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কেএনইউ প্রতিনিধিরা।

কেএনইউ এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্মা আমলে ‘ফোর-কাট পলিসির’ আওতায় সামরিক অভিযানে দুই লাখেরও বেশি কারেনকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে শরণার্থী হতে হয়েছিল।

‘ফোর-কাট পলিসি’ হলো কারেনদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা বার্মার সামরিক জান্তা সরকারের একটি নীতি। এর মানে হলো-চারটি জিনিস থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা- খাবার, তথ্য, ভবিষ্যতের জন্য প্রতিরোধ যোদ্ধা নিয়োগ ও সম্পদ। এসব থেকে বিচ্ছিন্ন করার ফলে কারেন এলাকাগুলোর গ্রামবাসীদের এমনিতেই জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যেতে হয়।

মূলত সত্তরের দশকে তৎকালীন বার্মার সামরিক বাহিনী এ নীতি তৈরি করে যার লক্ষ্য ছিল খাদ্য, সম্পদ বা অর্থ, তথ্য ও নতুন যোদ্ধা রিক্রুটের পথ যেভাবেই হোক বন্ধ করার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গড়ে উঠা সশস্ত্র মিলিশিয়াদের দমন করা। আরও বেশ কিছু নৃগোষ্ঠীর মতো কারেনদের সঙ্গে বার্মার সেনাবাহিনীর লড়াই চলেছে অনেকদিন। পরে ১৯৮৯ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এ সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি মিয়ানমার। অবশ্য কেএনইউ বলছে, তারা কারেন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন।

কেএনইউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। যেভাবে উত্তর রাখাইনের সংঘাত মোকাবেলা করা হচ্ছে সেটি কারেনদের ওপর ফোর-কাট নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী সামরিক কায়দায় অভিযানকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুই লাখ কারেনকে বাস্তুচ্যুত ও দেড় লাখ কারেনকে শরণার্থী হতে হয়েছিল।

রাখাইনে গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের নামে ভয়াবহ নির্যাতন নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিযে এসে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।