ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত গুলি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই: ‎জামায়াত এমপির ভাগ্নে কারাগারে এক মাস বয়সি শিশুকে টিকার পরিবর্তে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান খান পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংকট কাটলে টিকার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিলিপাইনের সিনেটে গোলাগুলি, সিনেটরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ঘরে বসেই ফ্রুট ফেসিয়াল করবেন যেভাবে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

শরীরের সুস্থতায় তো বটেই, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও দারুণ কার্যকর ফল। পার্লার বা স্যালনে গিয়ে ব্যয়বহুল ফেসিয়াল করার বদলে ঘরেই ফল দিয়ে ফেসিয়াল করা যায়। এর জন্য জানতে হবে কিছু ধাপ।

ফেসিয়ালের জন্য কোন ধরনের ফল বেছে নেবেন:
আঙুর, শসা, ডুমুর, পেঁপে, আপেল, স্ট্রবেরি, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল দিয়ে ফেসিয়াল করা যায়। এসব ফলের ভেতর থেকে একটি বা দুটি ফলের মাস্ক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এসব ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ত্বকের সংক্রমণ ও সমস্যা কমাতে সাহায্য করে ফল। ফলে থাকা ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বককে সতেজ রাখে, বয়সের ছাপ কমায় এবং ত্বককে করে তোলে কোমল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ঘরে বসে ফেসিয়ালের জন্য ফলের সঙ্গে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেমন মধু, দুধ, দই, ওটমিল যোগ করতে পারেন।

মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি বলিরেখা ও দাগ কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। দুধ প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে বয়সের ছাপ থেকেও রক্ষা করে। ওটমিলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের জ্বালা ও চুলকানি কমাতে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ঘরে বসে ফ্রুট ফেসিয়াল করার কয়েকটি ধাপ:
ক্লিনজিং: প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তুলোর বল দুধে ভিজিয়ে মুখে আলতোভাবে ঘষুন। বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে স্ক্রাব জরুরি। এর জন্য লাগবে- ১ টেবিল চামচ ওটমিল, ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসার গুঁড়ো, সামান্য গোলাপজল বা পানি। সব উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টটি মুখ ও গলায় লাগিয়ে ২–৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতায় প্রাকৃতিক উপাদান: মুখে সামান্য মধু লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়া কমলা বা লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও ত্বকের কালচে ভাব কমাতে কার্যকর।

স্টিম: এ পর্যায়ে গরম পানির ভাপ নিন। তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে পাঁচ মিনিট স্টিম নিন। এতে ত্বকের পোরস খুলে যাবে। ফেসিয়ালের উপাদানগুলো ভালোভাবে কাজ করবে।

ফলের মাস্ক: টমেটোর মাস্কের জন্য একটি পাকা টমেটো চটকে নিন। কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ২০–৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। এরপর ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কলার মাস্ক বানাতে পাকা কলা চটকে সামান্য লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ফেসিয়ালের পর গোলাপজল ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ লাগে।

ময়েশ্চারাইজিং: শসা ব্লেন্ড করে পেস্ট বানান। মুখ ও গলায় ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

সতর্কতা:
ফেসিয়াল সাধারণত নিরাপদ হলেও সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত

ঘরে বসেই ফ্রুট ফেসিয়াল করবেন যেভাবে

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

শরীরের সুস্থতায় তো বটেই, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও দারুণ কার্যকর ফল। পার্লার বা স্যালনে গিয়ে ব্যয়বহুল ফেসিয়াল করার বদলে ঘরেই ফল দিয়ে ফেসিয়াল করা যায়। এর জন্য জানতে হবে কিছু ধাপ।

ফেসিয়ালের জন্য কোন ধরনের ফল বেছে নেবেন:
আঙুর, শসা, ডুমুর, পেঁপে, আপেল, স্ট্রবেরি, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল দিয়ে ফেসিয়াল করা যায়। এসব ফলের ভেতর থেকে একটি বা দুটি ফলের মাস্ক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এসব ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ত্বকের সংক্রমণ ও সমস্যা কমাতে সাহায্য করে ফল। ফলে থাকা ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বককে সতেজ রাখে, বয়সের ছাপ কমায় এবং ত্বককে করে তোলে কোমল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ঘরে বসে ফেসিয়ালের জন্য ফলের সঙ্গে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেমন মধু, দুধ, দই, ওটমিল যোগ করতে পারেন।

মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি বলিরেখা ও দাগ কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। দুধ প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে বয়সের ছাপ থেকেও রক্ষা করে। ওটমিলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের জ্বালা ও চুলকানি কমাতে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ঘরে বসে ফ্রুট ফেসিয়াল করার কয়েকটি ধাপ:
ক্লিনজিং: প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তুলোর বল দুধে ভিজিয়ে মুখে আলতোভাবে ঘষুন। বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে স্ক্রাব জরুরি। এর জন্য লাগবে- ১ টেবিল চামচ ওটমিল, ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসার গুঁড়ো, সামান্য গোলাপজল বা পানি। সব উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টটি মুখ ও গলায় লাগিয়ে ২–৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতায় প্রাকৃতিক উপাদান: মুখে সামান্য মধু লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়া কমলা বা লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও ত্বকের কালচে ভাব কমাতে কার্যকর।

স্টিম: এ পর্যায়ে গরম পানির ভাপ নিন। তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে পাঁচ মিনিট স্টিম নিন। এতে ত্বকের পোরস খুলে যাবে। ফেসিয়ালের উপাদানগুলো ভালোভাবে কাজ করবে।

ফলের মাস্ক: টমেটোর মাস্কের জন্য একটি পাকা টমেটো চটকে নিন। কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ২০–৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। এরপর ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কলার মাস্ক বানাতে পাকা কলা চটকে সামান্য লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ফেসিয়ালের পর গোলাপজল ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ লাগে।

ময়েশ্চারাইজিং: শসা ব্লেন্ড করে পেস্ট বানান। মুখ ও গলায় ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

সতর্কতা:
ফেসিয়াল সাধারণত নিরাপদ হলেও সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।