ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এজন্য কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলা, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ফিসকাল সাপোর্ট, রেগুলেটরি তদারকি ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে : ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন, বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থানভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা। পাশাপাশি ‘সবার জন্য অর্থনীতি’ নিশ্চিত করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের কথাও বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে বহু সংকট মোকাবিলা করে অগ্রগতি অর্জন করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা, দুর্ভিক্ষ কিংবা বৈশ্বিক তেলের মূল্যবৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশ নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে পথ খুঁজে নিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের সংস্কার ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের সৃজনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা গেছে। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যক্তিখাতের উদ্যোগ ও প্রণোদনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের টেকসই অগ্রগতির জন্য কেবল সরকারের প্রণোদনার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, ব্যক্তিখাতকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় বিনিয়োগ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয়। তাই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণে ওষুধ, চামড়া ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য শুধু আইন নয়, সামাজিক সম্প্রীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভাজনের পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থনীতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামোয় টাকা পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এজন্য কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলা, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ফিসকাল সাপোর্ট, রেগুলেটরি তদারকি ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে : ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন, বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থানভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা। পাশাপাশি ‘সবার জন্য অর্থনীতি’ নিশ্চিত করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের কথাও বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে বহু সংকট মোকাবিলা করে অগ্রগতি অর্জন করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা, দুর্ভিক্ষ কিংবা বৈশ্বিক তেলের মূল্যবৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশ নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে পথ খুঁজে নিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের সংস্কার ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের সৃজনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা গেছে। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যক্তিখাতের উদ্যোগ ও প্রণোদনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের টেকসই অগ্রগতির জন্য কেবল সরকারের প্রণোদনার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, ব্যক্তিখাতকেও বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় বিনিয়োগ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয়। তাই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণে ওষুধ, চামড়া ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য শুধু আইন নয়, সামাজিক সম্প্রীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভাজনের পরিবর্তে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থনীতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।