ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যাবরেরায় প্রত্যাশা মেটেনি বাংলাদেশের

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

২০২২ সালে বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসেন হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। পারফরম্যান্সের গ্রাফটা কখনও ঊর্ধ্বমুখী না হলেও তাঁর চুক্তিটা প্রতিবছরই নবায়ন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে এ স্প্যানিয়ার্ডের মেয়াদ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। ৫১ মাসে ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে ৩৯ ম্যাচ। ১০ জয় এবং সমান ড্রয়ের সঙ্গে হেরেছে ১৯ ম্যাচে। গত বছর ইংল্যান্ডপ্রবাসী হামজা চৌধুরী, কানাডাপ্রবাসী শমিত সোমের মতো তারকাদের ভিড়িয়ে ১৯৮০ সালের পর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিল সবাই, তা আলোর মুখ দেখেনি। বরং কোচ ক্যাবরেরার অধীনে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে পারেননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

ক্যাবরেরার মতো এত সংখ্যক ম্যাচে বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি আর কোনো কোচ। ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ ম্যাচে ছিলেন ডাগ আউটে। জেমির অধীনে ৯টি জয়ের সঙ্গে পাঁচটিতে ড্র এবং ১৫টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। ব্রিটিশ এ কোচের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি জিতলেও ক্যাবরেরা ডাগ আউটে দাঁড়িয়েছেন ১০ ম্যাচ বেশি। ২০২২ সালে ক্যাবরেরার অধীন খেলা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাহরাইন, তুর্কমেনিস্তান ও মালয়েশিয়ার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এমনকি প্রীতি ম্যাচে নেপালের কাছেও হেরেছিল ৩-১ গোলে। ওই বছর শুধু একটি জয় এসেছিল কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচের মধ্যে জিতেছে একটিতে। সেটাও গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র ও তিনটিতে হার।

ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। বরং ২০২৩ সালে অপেশাদার সিশেলসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে জিতলেও পরের ম্যাচে হেরেছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভুটানের মতো দলের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের বেঙ্গালুরু সাফে সেমিফাইনাল খেলাটাই সেরা অর্জন। ১০টি জয়ের মধ্যে তিনটি করে এসেছে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে। অন্য চার জয়ের দুটি কম্বোডিয়া এবং একটি করে এসেছে ভারত ও সিশেলসের বিপক্ষে। এই জয়গুলো এসেছে দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, একটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে, একটি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে। বাকিগুলো প্রীতি ম্যাচে। একটি দেশের সাফল্য-ব্যর্থতার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয় ফিফা র‍্যাঙ্কিং দিয়ে। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ক্যাবরেরা চার বছরের বেশি দায়িত্বে থাকলেও সেই অর্থে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ঘটেনি। তাঁর শুরুর সময়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৬তম। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে মাঝে র‍্যাঙ্কিং গিয়ে ঠেকে ১৯২তমতে। সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম।

গত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে বসেছিল প্রবাসীদের মিলনমেলা। বিশেষ করে লেস্টার সিটির তারকা হামজা চৌধুরীর আগমনের পর বেশ কয়েকজন ভালো মানের প্রবাসীর সন্ধান মেলে। এর মধ্যে কানাডার শমিত সোম, ইতালির ফাহমিদুল ইসলাম নজর কেড়েছেন। ভালো মানের প্রবাসীর সঙ্গে দেশের তারকাদের মিলে বাংলাদেশের এই দলটি গত কয়েক বছরের মধ্যে ছিল সেরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজার মতো ফুটবলারের আবির্ভাবে দেশের ফুটবলের উন্মাদনা বেড়ে যায় বহু গুণ। মাঠের বাইরে আলোচনা চলত বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে। কিন্তু সবুজ গালিচায় সেই অর্থে তেমন কিছু করতে পারেননি মিতুল মারমা-রহমত মিয়ারা। গত বছরের মার্চে শিলংয়ের ভারতের বিপক্ষে জেতার মতো অবস্থায় থেকেও ৩ পয়েন্ট আনতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ক্যাবরেরার দল নির্বাচন এবং খেলার কৌশল নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এরপর ক্যাবরেরাকে সরানোর জোর দাবি উঠলেও তাতে সায় দেননি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। স্প্যানিশ কোচের অধীনে কয়েকটি ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলেও ম্যাচ জয়ের মতো ফল আসেনি। তাই তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করার সম্ভাবনাই বেশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাবরেরায় প্রত্যাশা মেটেনি বাংলাদেশের

আপডেট সময় ০৫:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

২০২২ সালে বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসেন হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। পারফরম্যান্সের গ্রাফটা কখনও ঊর্ধ্বমুখী না হলেও তাঁর চুক্তিটা প্রতিবছরই নবায়ন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে এ স্প্যানিয়ার্ডের মেয়াদ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। ৫১ মাসে ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে ৩৯ ম্যাচ। ১০ জয় এবং সমান ড্রয়ের সঙ্গে হেরেছে ১৯ ম্যাচে। গত বছর ইংল্যান্ডপ্রবাসী হামজা চৌধুরী, কানাডাপ্রবাসী শমিত সোমের মতো তারকাদের ভিড়িয়ে ১৯৮০ সালের পর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিল সবাই, তা আলোর মুখ দেখেনি। বরং কোচ ক্যাবরেরার অধীনে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে পারেননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

ক্যাবরেরার মতো এত সংখ্যক ম্যাচে বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি আর কোনো কোচ। ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ ম্যাচে ছিলেন ডাগ আউটে। জেমির অধীনে ৯টি জয়ের সঙ্গে পাঁচটিতে ড্র এবং ১৫টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। ব্রিটিশ এ কোচের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি জিতলেও ক্যাবরেরা ডাগ আউটে দাঁড়িয়েছেন ১০ ম্যাচ বেশি। ২০২২ সালে ক্যাবরেরার অধীন খেলা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাহরাইন, তুর্কমেনিস্তান ও মালয়েশিয়ার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এমনকি প্রীতি ম্যাচে নেপালের কাছেও হেরেছিল ৩-১ গোলে। ওই বছর শুধু একটি জয় এসেছিল কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচের মধ্যে জিতেছে একটিতে। সেটাও গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র ও তিনটিতে হার।

ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। বরং ২০২৩ সালে অপেশাদার সিশেলসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে জিতলেও পরের ম্যাচে হেরেছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভুটানের মতো দলের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের বেঙ্গালুরু সাফে সেমিফাইনাল খেলাটাই সেরা অর্জন। ১০টি জয়ের মধ্যে তিনটি করে এসেছে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে। অন্য চার জয়ের দুটি কম্বোডিয়া এবং একটি করে এসেছে ভারত ও সিশেলসের বিপক্ষে। এই জয়গুলো এসেছে দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, একটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে, একটি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে। বাকিগুলো প্রীতি ম্যাচে। একটি দেশের সাফল্য-ব্যর্থতার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয় ফিফা র‍্যাঙ্কিং দিয়ে। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ক্যাবরেরা চার বছরের বেশি দায়িত্বে থাকলেও সেই অর্থে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ঘটেনি। তাঁর শুরুর সময়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৬তম। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে মাঝে র‍্যাঙ্কিং গিয়ে ঠেকে ১৯২তমতে। সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম।

গত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে বসেছিল প্রবাসীদের মিলনমেলা। বিশেষ করে লেস্টার সিটির তারকা হামজা চৌধুরীর আগমনের পর বেশ কয়েকজন ভালো মানের প্রবাসীর সন্ধান মেলে। এর মধ্যে কানাডার শমিত সোম, ইতালির ফাহমিদুল ইসলাম নজর কেড়েছেন। ভালো মানের প্রবাসীর সঙ্গে দেশের তারকাদের মিলে বাংলাদেশের এই দলটি গত কয়েক বছরের মধ্যে ছিল সেরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজার মতো ফুটবলারের আবির্ভাবে দেশের ফুটবলের উন্মাদনা বেড়ে যায় বহু গুণ। মাঠের বাইরে আলোচনা চলত বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে। কিন্তু সবুজ গালিচায় সেই অর্থে তেমন কিছু করতে পারেননি মিতুল মারমা-রহমত মিয়ারা। গত বছরের মার্চে শিলংয়ের ভারতের বিপক্ষে জেতার মতো অবস্থায় থেকেও ৩ পয়েন্ট আনতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ক্যাবরেরার দল নির্বাচন এবং খেলার কৌশল নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এরপর ক্যাবরেরাকে সরানোর জোর দাবি উঠলেও তাতে সায় দেননি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। স্প্যানিশ কোচের অধীনে কয়েকটি ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলেও ম্যাচ জয়ের মতো ফল আসেনি। তাই তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করার সম্ভাবনাই বেশি।