অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে রোহিঙ্গাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশে। এবার ভারতও বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সীমান্তে চার দফায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি এবং পুলিশের হাতে ৫৭ রোহিঙ্গা আটক নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশইন করেছে।
গত ২০১২ ও ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সহিংসতার সময় ভারতে পালিয়ে যায় এসব রোহিঙ্গা। ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গাদের আটকের পর বলছে, ‘তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও। বাংলাদেশ সরকার তোমাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।’
আটক রোহিঙ্গা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, ভারত সরকার রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের ধরে বাংলাদেশে পুশইন করছে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে। এদিকে ভারত থেকে পুশইন করা রোহিঙ্গারা পড়েছে মহাবিপাকে। বিজিবির হাতে আটক এসব রোহিঙ্গাদের পুলিশ গ্রহণ করছে না। আবার তাদেরকে রোহিঙ্গ ক্যাম্পেও পাঠানো যাচ্ছে না।
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন করা রাখাইনের মন্ডুপ জেলার হারিদং এলাকার আবদুর রহিম বলেন, ‘২০১৪ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা হলে আমরা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ভারতে চলে যাই।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেওয়ার খবর শুনে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের বলেছে- তোমরা এ দেশী নও, তোমরা পরদেশী। তোমাদের এদেশে ঠাঁই হবে না। তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও।’
আবদুর রহিম বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ওখানে তিন বছর অবস্থান করেছি। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতাম। শুনেছি আমার বাবা-মা বর্তমানে বাংলাদেশে চলে এসেছেন।’ তিনি বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এপাশে আসলে বিজিবি আমাদের আটক করে।’
মিয়ানমারের বাসিন্দা রুপিয়া বেগম জানান, তারা ২০১২ সালে ভারতে যান। সেখানে বিভিন্ন কাজকর্ম করে তাদের জীবন চলতো। ভারতীয় পুলিশ তাদেরেরক আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। বিএসএফ রাতের আঁধারে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কী করবেন বুঝতে পারছেন না। বিজিবি তাদেরকে আটক করে রেখেছে।
বিজিবির পদ্মশাখরা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোশাররফ হোসেন আটককৃতদের বরাত দিয়ে জানান, তারা সবাই ভারত থেকে ‘দালালের সহায়তায়’ বাংলাদেশে এসেছেন। তারা এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে দুই দফায় মিয়ানমার থেকে ভারতের দিল্লিতে যান। সেখানে তারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিচ্ছে- এই খবর পেয়ে তারা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।
বিজিবির হিজলদি সীমান্তের নায়েক সুবেদার ওমর ফারুক জানান, রোহিঙ্গা পুশইনের খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্য নজরুলের বাড়িতে যান। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন যে বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে বসবাস করে আসছিলেন। এই বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, আটক রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সাতক্ষীরা ৩৮ ব্যাটালিয়ানের কমান্ডিং অফিসার আরমান হোসেন পিএসসি বলেন, ‘আমরা তাদেরকে আটক করেছি। তারা কেন আসছে এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারব না। আটক রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরে দেওয়া হবে।’ সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, নতুন রোহিঙ্গা আটক হলে পুলিশ তাদেরকে রোহিঙ্গ ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। পুরাতন রোহিঙ্গা আটক হলে পুলিশের কিছুই করার থাকবে না। সেটা বিজিবির ব্যাপার তারা তাদেরকে কী করবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো.মহিউদ্দিন জানান, নতুন রোহিঙ্গা যারা ভারতে যাচ্ছিল বিজিবি তাদেরকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে পুলিশ রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে। পুরাতন রোহিঙ্গা যারা ভারত থেকে বাংলদেশে আসছে, তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে সেটা ভাবা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে ১৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করে কলারোয়া থানা পুলিশ। এদের মধ্যে চার নারী, চার পুরুষ ও পাঁচ শিশু রয়েছে। গত ৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হওয়া সাত রোহিঙ্গা। এরপর ১১ অক্টোবর সদরের পদ্মশাখরা সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করে। সর্বশেষ আজ (শুক্রবার) কলারোয়া উপজেলার হিজলদী সীমান্ত থেকে ১৮ রোহিঙ্গকে আটক করে বিজিবি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















