আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
ভারতে অবস্থানকারী একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে আমরা নিয়মিত পতাকা বৈঠক, সমন্বিত টহলসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করি। নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের দেশে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিএসএফের সব পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রেরণামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে অধিক সংখ্যক ভোটার নিশ্চিন্তে ভোট প্রদানে উৎসাহিত হন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ সময়ে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষ্যে সব সীমান্তবর্তী বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল মনিটরিং, বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস ও থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৭টি জেলা, ৬২টি উপজেলা এবং ১টি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৩৭টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৫টি বেইজ ক্যাম্পে ১৪৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য (এর মধ্যে তিন প্লাটুন সংরক্ষিত) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে মোট ৭৬টি বিওপির প্রতিটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ হিসেবে সর্বমোট চার হাজারের অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুইক রেসপন্স ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় আধুনিক দুটি এপিসিসহ এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স (QRF) হিসেবে মোতায়েন থাকবে। এছাড়া রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ এলাকায় সাতটি কুকুরসহ এক প্লাটুন K-9 ইউনিট মোতায়েন থাকবে।
পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে ১৫টির অধিক স্পিডবোট ও ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফটের মাধ্যমে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময় থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত দিন ও রাতে রিভারাইন পেট্রোলে নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি ইউনিট ড্রোনের মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখবে। অতিরিক্ত বেজ স্টেশন ও রিপিটার স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে ডিএমআর সেটের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সদর দপ্তরে র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) এবং বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) সর্বদা প্রস্তুত থাকবে, যারা মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম।
সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অধীনস্থ ইউনিটসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি করছে বলেও জানান তিনি। এসময় বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















