আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে আন্দোলন নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর কী আছে। আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধ বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ১১ দলের বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক হবে।
সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংসদ বর্জন নয়, ওয়াকআউট করেছেন তারা। বিরোধী দল সংসদে ফিরবে কি না তা বৃহস্পতিবার দেখা যাবে।
এসময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি পীরজাদা হানজালা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি গণভোট প্রস্তাব করে সরকারে আসার পর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন থেকে সরে গেছে।
গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে বলা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের ওপর মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেন। বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি এবং বিরোধী দল থেকে সমান সদস্য নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সমান সদস্য হতে পারে না।
শফিকুর রহমান বুধবার সংবাদ সম্মেলন থেকে আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কার চেয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বিরোধী দল মেনে নেয়নি।
বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বিরোধী দল প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চায়। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্পিকার জানিয়েছেন অতীতে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাব মঙ্গলবারের আলোচনায় শেষ হয়েছে। স্পিকার ওয়াকআউট না করার অনুরোধ করেছিলেন।
স্পিকারের অনুরোধের পরও জামায়াত-এনসিপি জোট কেন ওয়াকআউট করেছে- প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, গণভোটের রায় সংসদে যেহেতু কার্যকর করতে পারলাম না, তাই জনগণের দাবি জনগণের কাছে নিয়ে যাব।
স্বতন্ত্র এমপি শেখ মুজিবুর রহমানের পর, বিএনপির এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক বুধবার জুলাই সনদের ওপর মুলতবি প্রস্তাব আনা হয়েছে। ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি দল মুলতবি প্রস্তাব এনেছে। এর ওপর ৫ এপ্রিল আলোচনা হবে বলে স্পিকার সময় নির্ধারণ করেছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায় চাপা দিতেই এই নোটিশ আনা হয়েছে। এটারও প্রতিবাদ করেছি।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বুধবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এর আগে সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
জামায়াত আমির বলেন, বিএনপির পক্ষে যিনি ঐকমত্য কমিশনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি গণভোটের প্রস্তাব করেছিলেন। জামায়াতসহ অন্যান্য দল এতে সমর্থন করেছিল। বিএনপিও গণভোটো হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবে বাধার মুখেও ডেপুটি স্পিকার নোটিশটি আমলে নেন।
অতীতের গণভোটের নজির দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগে তিনটি গণভোটের ফলাফল মান্য করা হয়েছে। সংসদে এবারের গণভোটের সমাধান চেয়েছিলাম। গণভোটের রায় কীভাবে কার্যকর করা যায়, চেষ্টা করেছিলাম।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরকারি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এটা তাদের ব্যাপার। জনগণ গণভোটে জুলাই আদেশ, সনদকে অনুমোদন করেছে। সংসদে যেহেতু পারলাম না, জনগণের দাবি জনগণের কাছে নিয়ে যাব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















