ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তিনিও মামলার আসামি।

বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলেন- গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী। এছাড়া বাকি দুইজন হলেন- মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, আজ মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আসামিরা ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। অপর চার আসামি সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান চট্টগ্রামে থাকায় আদালতে আসেননি।

তিনি বলেন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সঙ্গত কারণে আদালতে না আসায় আবেদনের বিরোধিতা করিনি। তবে অপর চার আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করি। আদালত চার আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয়তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তিপত্র করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করেন। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

গত ২৮ আগস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যান। ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন আসামিরা। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তিনিও মামলার আসামি।

বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলেন- গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী। এছাড়া বাকি দুইজন হলেন- মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, আজ মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আসামিরা ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। অপর চার আসামি সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান চট্টগ্রামে থাকায় আদালতে আসেননি।

তিনি বলেন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সঙ্গত কারণে আদালতে না আসায় আবেদনের বিরোধিতা করিনি। তবে অপর চার আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করি। আদালত চার আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয়তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তিপত্র করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করেন। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

গত ২৮ আগস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যান। ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন আসামিরা। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।