আকাশ নিউজ ডেস্ক:
মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কি শুক্রাণু হারাতে পারে নিজের ক্ষমতা! সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, মহাকাশের কিছু জায়গায় মাধ্যাকর্ষণ-শূন্যতার প্রভাব পড়তে পারে মহাকাশচারীর শুক্রাণুর কর্মক্ষমতায়। এমনকি, মহাকাশে যে সব পশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে মাধ্যাকর্ষণ-শূন্যতা। মাধ্যাকর্ষণ নেই এমন জায়গায় থাকলে শুক্রাণু হোঁচট খেতে শুরু করে।
গবেষণাটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। তারা মনে করে, মাধ্যকর্ষণ-শূন্যতা আমাদের জননকোষের উপর প্রভাব ফেলে। শুধু মানুষ নয়, অন্য স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। পৃথিবীর বুকেই কৃত্রিম ভাবে মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থান তৈরি করেন বিজ্ঞানীরা। ৩ডি ক্লিনোস্ট্যাট যন্ত্র ব্যবহার করেন তারা। মানুষ, শূকর এবং ইঁদুরের শুক্রাণু নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
বিজ্ঞানীরা দেখেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থানে শুক্রাণু এমন ভাবে ঘুরছে, ‘চোখবাঁধা’ থাকলে মানুষ যেমন ঘুরে বেড়ায়। অর্থাৎ, প্রায় লক্ষ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থান তৈরি করে শুক্রাণুগুলোর সামনে রাখা ছিল একটি চ্যানেল বা প্রণালী, যা স্ত্রী জনননালীর মতো করে গড়া হয়। দেখা গেছে, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য অবস্থায় ওই প্রণালীর সামনে গিয়ে বিভ্রান্ত, দিশেহার হয়ে পড়ে শুক্রাণু।
অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোল ম্যাকফারসন জানান, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য অবস্থায় খুব কম সংখ্যক শুক্রাণু প্রণালীর মধ্যে দিয়ে উদ্দিষ্ট গন্তব্যে (অর্থাৎ ডিম্বাণুর কাছে) পৌঁছাতে পেরেছে। সেখানে মাধ্যাকর্ষণ থাকলে অনেক বেশি সংখ্যক শুক্রাণু প্রণালীর মধ্যে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছোতে পারে। শুধু মানুষ নয়, অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, মাধ্যাকর্ষণ নেই এমন স্থানেও শুক্রাণুর শারীরিক চলনে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে তার সমস্যা হচ্ছে বলে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তাই তাঁরা মনে করেন, উদ্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে তার যে সমস্যা হচ্ছে, তা চলনের কারণে নয়। প্রভাব বিস্তার করছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
এর আগে ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পরিবর্তন হলে শুক্রাণু শক্তি হারায়। তার সক্রিয়তাও কমে যায়। সাম্প্রতিক গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য জায়গায় শুক্রাণু জনননালীতে গিয়েও পথ হারায়। উদ্দিষ্ট গন্তব্য অর্থাৎ ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না। কেন এমন হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে এর সম্ভাব্য একটি কারণ তাঁরা মনে করেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থানে প্রণালীর প্রাচীর স্পর্শ করতে পারে না তারা। সে কারণে দিশাহারা হয়ে পড়ে। তবে বিজ্ঞানীদের অন্য একটা অংশ মনে করেন, শুধু মাধ্যাকর্ষণই এ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে না। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থানেও নিষেকস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম শুক্রাণু। ডিম্বাণুকে খুঁজে পেতেও সক্ষম। তবে পরিস্থিতির কারণে সাফল্যের হার কমতে পারে।
ম্যাকফারসন দাবি করেছেন, মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য স্থানে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকলেও জননক্ষমতা কমতে পারে। আরও বেশি সময় থাকলে সেই মাত্রা আরও কমতে পারে। তবে এই নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























