আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বর্তমান সময়ে প্রসাধন হিসেবে পারফিউম বা বডি স্প্রে ব্যবহারের চল বেড়েছে। কিন্তু একজন মুসলিম নারী কি জনসমক্ষে বা ঘরের বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবেন? প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। নারীদের সুগন্ধি ব্যবহারের সঠিক বিধান নিচে তুলে ধরা হলো-
ঘরের বাইরে সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান:
শায়খ আহমাদুল্লাহর ফতোয়া অনুযায়ী, নারীরা যখন ঘরের বাইরে বের হবেন, তখন তাদের শরীরে বা পোশাকে এমন কোনো তীব্র সুগন্ধি থাকা যাবে না, যার ঘ্রাণ পরপুরুষের নাকে পৌঁছায়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম।
তিনি বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন, সুগন্ধি মেখে কোনো নারী যখন কোনো পুরুষের পাশ দিয়ে যায়, যাতে তারা সেই সুগন্ধ পায়, তবে সেই নারী ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হয়।
নারীরা কোথায় সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবেন?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী নারীদের সুগন্ধি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে:
ঘরের ভেতর: নিজের স্বামী বা মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে হারাম) পুরুষদের সামনে।
নারীদের মাহফিল: যেখানে শুধু নারীরা উপস্থিত থাকেন এবং কোনো পরপুরুষের প্রবেশের সম্ভাবনা নেই।
হালকা ঘ্রাণ: যদি বডি স্প্রে বা সুগন্ধি এমন হয় যে তার ঘ্রাণ শুধু নিজের পোশাক বা শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাইরে বের হলে আশপাশের মানুষের নাকে যায় না, তবে তা ব্যবহারের সুযোগ আছে (যেমন- ঘাম নিরোধক হিসেবে)।
ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় নারীদের সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন কিছু বেছে নেওয়া যাবে না যা অন্যের দৃষ্টি বা আকর্ষণ কেড়ে নেয়। পর্দার পূর্ণতা রক্ষায় সুগন্ধি পরিহার করাই মুমিন নারীর বৈশিষ্ট্য।
মেয়েদের সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করে বাইরে যাওয়া নিয়ে FAQ
প্রশ্ন: ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে কি বডি স্প্রে ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি সেই স্প্রের ঘ্রাণ তীব্র না হয় এবং শুধু শরীর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ব্যবহারের অনুমতি আছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























