আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলী আগার রানআউট নিয়ে বিতর্ক থামার যেন নাম নেই। ঘটনাটি ঘিরে ক্রিকেট বিশ্ব যেন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছেন, নিয়ম অনুযায়ী মেহেদী হাসান মিরাজের রানআউটটি একেবারেই বৈধ। অন্যদিকে আরেক পক্ষের মতে, বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের এই কাজ ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই বিতর্কে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। তার মতে, সালমান আসলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টারই মূল্য দিতে হয়েছে তাকে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। তখন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে পাকিস্তানের রান শতক ছাড়িয়ে যায়। দুজনই ছিলেন শক্ত ফর্মে। এমন সময় রিজওয়ান মিরাজের করা বলটি সামনে খেলেন এবং মিরাজ পা দিয়ে সেটি থামিয়ে দেন। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত ছেড়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে ছিলেন সালমান আগা। বলটি তার কাছাকাছি চলে গেলে দুজনেই সেটি তুলতে হাত বাড়ান। তবে মিরাজ আগে বলটি কুড়িয়ে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন এবং সালমান রানআউট হন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রমিজ রাজা বলেন, তিনি ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট দর্শনে বিশ্বাস করেন। তার মতে, আধুনিক ক্রিকেটে দলগুলো সুযোগ পেলেই খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং এই রানআউটের ঘটনাটি খেলাধুলার চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই ছিল না।
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী মিরাজ কোনো ভুল করেননি। রমিজের ভাষায়, মিরাজ নিয়মের ভেতরেই ছিলেন, কিন্তু আগার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু করা। তাই প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
রমিজ আরও বলেন, আগার প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিক ছিল, কারণ দুজন খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন—একজন রানআউট করতে চেয়েছিলেন, আর অন্যজন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি এটাও মন্তব্য করেন যে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বন্ধুত্বের খুব বেশি জায়গা থাকে না।
শেষে ঘটনাটির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি বাংলাদেশকে ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১০ নম্বর দেবেন এবং তার মতে, বাংলাদেশ চাইলে আরও ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























