ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘সাংবাদিকতা সত্য-ন্যায় থেকে সরে গেলে রাষ্ট্রের অন্য তিনটি অঙ্গও দুর্বল হয়ে যায়’ রাজধানীর ধলপুরে ডিএসসিসির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ঈদযাত্রায় অনিয়ম পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা: সড়কপরিবহন মন্ত্রী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে সংসদে মতবিরোধের নামে কারো আচরণ মাত্রা ছাড়ালে বুঝতে হবে অন্য উদ্দেশ্য আছে: তথ্যমন্ত্রী শত্রুদের কাছে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশপ্রেমিক সরকার পেয়েছি’:পানিসম্পদ মন্ত্রী

‘সালমানকে আউট করা খেলাধুলার চেতনার বাইরে ছিল’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলী আগার রানআউট নিয়ে বিতর্ক থামার যেন নাম নেই। ঘটনাটি ঘিরে ক্রিকেট বিশ্ব যেন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছেন, নিয়ম অনুযায়ী মেহেদী হাসান মিরাজের রানআউটটি একেবারেই বৈধ। অন্যদিকে আরেক পক্ষের মতে, বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের এই কাজ ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই বিতর্কে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। তার মতে, সালমান আসলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টারই মূল্য দিতে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। তখন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে পাকিস্তানের রান শতক ছাড়িয়ে যায়। দুজনই ছিলেন শক্ত ফর্মে। এমন সময় রিজওয়ান মিরাজের করা বলটি সামনে খেলেন এবং মিরাজ পা দিয়ে সেটি থামিয়ে দেন। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত ছেড়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে ছিলেন সালমান আগা। বলটি তার কাছাকাছি চলে গেলে দুজনেই সেটি তুলতে হাত বাড়ান। তবে মিরাজ আগে বলটি কুড়িয়ে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন এবং সালমান রানআউট হন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রমিজ রাজা বলেন, তিনি ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট দর্শনে বিশ্বাস করেন। তার মতে, আধুনিক ক্রিকেটে দলগুলো সুযোগ পেলেই খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং এই রানআউটের ঘটনাটি খেলাধুলার চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই ছিল না।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী মিরাজ কোনো ভুল করেননি। রমিজের ভাষায়, মিরাজ নিয়মের ভেতরেই ছিলেন, কিন্তু আগার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু করা। তাই প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।

রমিজ আরও বলেন, আগার প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিক ছিল, কারণ দুজন খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন—একজন রানআউট করতে চেয়েছিলেন, আর অন্যজন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি এটাও মন্তব্য করেন যে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বন্ধুত্বের খুব বেশি জায়গা থাকে না।

শেষে ঘটনাটির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি বাংলাদেশকে ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১০ নম্বর দেবেন এবং তার মতে, বাংলাদেশ চাইলে আরও ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের ২৪ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ

‘সালমানকে আউট করা খেলাধুলার চেতনার বাইরে ছিল’

আপডেট সময় ০৩:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলী আগার রানআউট নিয়ে বিতর্ক থামার যেন নাম নেই। ঘটনাটি ঘিরে ক্রিকেট বিশ্ব যেন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছেন, নিয়ম অনুযায়ী মেহেদী হাসান মিরাজের রানআউটটি একেবারেই বৈধ। অন্যদিকে আরেক পক্ষের মতে, বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের এই কাজ ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই বিতর্কে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। তার মতে, সালমান আসলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টারই মূল্য দিতে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। তখন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার জুটিতে পাকিস্তানের রান শতক ছাড়িয়ে যায়। দুজনই ছিলেন শক্ত ফর্মে। এমন সময় রিজওয়ান মিরাজের করা বলটি সামনে খেলেন এবং মিরাজ পা দিয়ে সেটি থামিয়ে দেন। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত ছেড়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে ছিলেন সালমান আগা। বলটি তার কাছাকাছি চলে গেলে দুজনেই সেটি তুলতে হাত বাড়ান। তবে মিরাজ আগে বলটি কুড়িয়ে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন এবং সালমান রানআউট হন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রমিজ রাজা বলেন, তিনি ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট দর্শনে বিশ্বাস করেন। তার মতে, আধুনিক ক্রিকেটে দলগুলো সুযোগ পেলেই খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং এই রানআউটের ঘটনাটি খেলাধুলার চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই ছিল না।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী মিরাজ কোনো ভুল করেননি। রমিজের ভাষায়, মিরাজ নিয়মের ভেতরেই ছিলেন, কিন্তু আগার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু করা। তাই প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।

রমিজ আরও বলেন, আগার প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিক ছিল, কারণ দুজন খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন—একজন রানআউট করতে চেয়েছিলেন, আর অন্যজন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি এটাও মন্তব্য করেন যে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বন্ধুত্বের খুব বেশি জায়গা থাকে না।

শেষে ঘটনাটির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি বাংলাদেশকে ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১০ নম্বর দেবেন এবং তার মতে, বাংলাদেশ চাইলে আরও ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারত।