আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
এক পাশে জয়সুরিয়া, অন্যপাশে মালিঙ্গা– ডাগআউটে দুই নক্ষত্রের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে লঙ্কান ক্রিকেটের গৌরবের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। দাপট আর আভিজাত্যের মূর্ত সেই দুই প্রতীকের সামনেই কিনা ভেঙে পরল লঙ্কান ক্রিকেটের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। গ্রুপপর্বে জিম্বাবুয়ের কাছে হারটিকে অঘটন ধরে নিলেও সুপার এইটে ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের কাছে জোড়া ধাক্কাটাকে কিছুতেই যে ভাগ্যের পরিহাস বলা যায় না। বরং লঙ্কান সিংহদের আক্রমণের যে তেজকে বিশ্বক্রিকেট সমীহ করত, সেটা রূপান্তরিত হয়েছে ভিতু আর দুর্বলে। দাসুন শানাকাদের এই দল শুধু মাঠের প্রতিপক্ষ নয় ভয় পায় ফেসবুকে তাদের সমর্থকদের সমালোচনাকেও।
নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০৭ রানে গুটিয়ে ৬১ রানের হারার পর ক্যামেরার সামনে এসে বাচ্চা ছেলের মতোই অজুহাত দাঁড় করেছেন শানাকা। ‘আমরা ক্রিকেটার হিসেবে যতই ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি না কেন, বাইরে প্রচুর নেতিবাচকতা রয়েছে। এটা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। স্টেডিয়ামের বাইরের দিকে তাকান, দেখবেন কত মানুষ মাইক হাতে আমাদের নিয়ে সমালোচনা করছে যারা কিনা খেলাই দেখেননি।’ ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লঙ্কান সমর্থকরা এই দল নিয়ে বিদ্রুপ আর কুৎসা রটনা করছে। যা থেকে রক্ষা পেতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করার আকুতিও জানিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা। ‘ আমরা হয়তো আজ খেলব, কাল চলে যাব। কিন্তু ভবিষ্যতে যারা খেলতে আসবে–সরকার যদি এই নেতিবাচকতা বন্ধ করতে পারে তাবে সেটা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালা হবে।’
২০১৪ সালে মালিঙ্গাদের টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পরই যেন শ্রীলঙ্কার সোনালি ইতিসাসের যতি পড়েছে। তারপর আইসিসির ১০টি টুর্নামেন্টের কোনটিতেই সেমিফাইনালের দরজা পর্যন্ত যেতে পারেনি লঙ্কানরা। যার মধ্যে তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, পাঁচটি টি২০ বিশ্বকাপ এবং দুটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রয়েছে। তাই সমস্যাটা যে গভীরে লঙ্কান ফেসবুক পেজগুলোতে সেগুলোই বলা হচ্ছে। ঘরের মাঠে এবারের বিশ্বকাপে লঙ্কান ব্যার্থতার জন্য বেশ কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছে লঙ্কান মিডিয়াগুলো।
যার মধ্যে একটিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে কিনা কোচ সনাথ জয়সুরিয়াকেই। দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে ভালো করার জন্য কলম্বো ও পাল্লেকেলেতে তিনি ‘স্লো এন্ড লো’ পিচ বানানোর সুপারিশ করে গেছেন গত কয়েক বছর। অনেকটা বাংলাদেশের সেই লঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মতো। যে কারণে টি২০ ফরম্যাটে লঙ্কান ক্রিকেটে পাওয়ার হিটার সেভাবে বের হয়নি। লঙ্কান ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শানাকা।
বিশ্বকাপের মাঝে চোটের কারণে ছিটকে গেছেন হাসারাঙ্গা আর পাথিরানার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার। তার আগে এহসান মালিঙ্গাকেও হারিয়েছেন তারা। শানাকার মতে অন্যান্য দলের তুলনায় তাদের ফিটনেস সচেতনতা কম। সমর্থকরা দায়ী করেছেন লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অস্থিরতাকেও। যেখানে ঘন ঘন প্রশাসন পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না লঙ্কান ক্রিকেটে। গত দুই বছরে তিনজন অধিনায়ক বদলে দলে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। কুমারা সাঙ্গাকারা মনে করছেন বর্তমান দলটিতে ব্যাটারদের পরিকল্পনা ও সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
দলকে ঢেলে সাজিয়ে পরবর্তনের ডাক দিয়েছেন পারভেজ মাহরুফের মতা সাবেকরা। ‘বছরের পর বছর আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে শ্রীলঙ্কার এই হাল দেখছি। চাপের মুখে ভেঙে পড়ছে তারা। এভাবে চলতে পারে না। আশা করব, বিশ্বকাপের পরই পুরো দলকে ঢেলে সাজাবে লঙ্কান বোর্ড।’ কোচ সনাথ জয়সুরিয়া অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকাপের পর তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























