আকাশ নিউজ ডেস্ক:
রমজানের রোজায় সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে আপনি এ সময়েও ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে পারেন। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি অল্প অল্প করে পান করুন। একবারে বেশি পানি না খেয়ে নিয়মিত বিরতিতে পান করা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শসা, তরমুজ, স্ট্রবেরিসহ অন্যান্য রসালো ফল এবং সবজি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন, যা প্রাকৃতিকভাবে আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
আর দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও পানি ছাড়া থাকার কারণে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপর প্রভাব পড়ে। সারাদিন পানি না খাওয়া, ঘুমের অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ফলে ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা, অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, চোখের নিচে কালো দাগ কিংবা ঠোঁট ফাটার সমস্যা বাড়ে। ফলে আয়নায় তাকালেই ক্লান্ত ও মলিন চেহারা চোখে পড়ে। আর সামান্য সচেতনতা ও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলে রোজার সময়ও ত্বক ভালো রাখা যায় এবং উজ্জ্বল ও সতেজ হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, সঠিক রুটিন শুরু করলে ঈদের সময় ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময়—
খাবারের প্রতি সচেতনতা:
রমজানে ত্বকের যত্ন শুধু বাহ্যিকভাবে নিলেই হবে না। এর জন্য খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন। ইফতার ও সেহরিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। যেমন— ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ ত্বকের জন্য উপকারী। সেই সঙ্গে চিনি, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে তোলে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়াই ভালো। আর ইফতার ও সেহরির মাঝে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
রোজায় সারাদিনের ক্লান্তির পর রাতে ত্বককে বাড়তি যত্ন দেওয়া প্রয়োজন। হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বকের পানিশূন্যতা দূর হয়। অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মুখে লাগাতে পারেন। এ ছাড়া সমপরিমাণ টকদই, মধু ও সামান্য হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করুন। আর অতিরিক্ত তেল ও ব্রণের সমস্যায় মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। আর চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ঠান্ডা টি-ব্যাগ, শসার রস কিংবা আলুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে চোখের চারপাশ অনেকটাই সতেজ দেখাবে।
সানস্ক্রিনের গুরুত্ব:
রমজানে ত্বক সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। তাই প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে অটুট রাখে এবং সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়। দিনে অন্তত দুবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
সেই সঙ্গে ত্বক যদি বেশি শুষ্ক হয়, তবে ভারি কিংবা রিচ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ফেস মিস্ট বা হালকা ফেস অয়েলও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে থাকে। আর দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। রোজার সময় ত্বক কিছুটা নাজুক অবস্থায় থাকে, তাই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।
ত্বকের যত্নে রুটিন আনা প্রয়োজন:
রোজায় খাওয়া ও ঘুমের সময় বদলে যায়। তাই ত্বকের যত্নের রুটিনও বদল আনা প্রয়োজন। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং ও সানস্ক্রিন— এই তিনটি ধাপ নিয়মিত অনুসরণ করুন। রাতে হালকা স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চললে ত্বক থাকবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।
সতেজতার সহজ উপায় বরফ থেরাপি:
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখে হালকা করে বরফ ঘষে নিতে পারেন। এতে চোখের ফোলা ভাব অনেকটাই কমে যায়। সেই সঙ্গে ত্বক টান টান দেখায়। বাইরে বের হওয়ার আগেও একইভাবে বরফ ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ লাগে। বরফ ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, কোষকে সজীব করে তোলে এবং অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কমাতে সাহায্য করে। ফলে মুখ আর মলিন দেখায় না। এ ছাড়া দিনে কয়েকবার পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখে ঝাপটা দিন। এতে ত্বকের কোষ সতেজ থাকে এবং ধুলাবালি জমে নিস্তেজ হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























