ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারওয়ান বাজারে গ্যারেজে আগুন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ: প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে নৈতিকতার প্রশ্নে কখনো আপোস করিনি : বাণিজ্য উপদেষ্টা যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে, তারাই পালাবে : মামুনুল হক মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহায়তার ঘোষণা আফগানিস্তানের জুলাই সনদে স্বাক্ষর এনসিপির, ধন‍্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের আমির রেজাউল করীমের বাসায় তারেক রহমান হাসিনার উপস্থিতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না: মির্জা ফখরুল ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত নির্বাচন হয়েছে করাপটেড পদ্ধতিতে, ইসিকে ক্ষমা চাইতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে যুবকের পা ভেঙে দিলেন প্রজেক্ট মালিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাছ ধরার চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের এক যুবককে গাছের ডাল ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাছের ঘেরের মালিক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

ঘের ব্যবসায়ী এবং শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহণ মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নাম্বার ওয়ার্ডের পালং এলাকার শাহিন মাদবরের (৩৮) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

এমন দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুকে দেখা যায় ভিডিওটি।

আহত সেলিম পাইক উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরী গ্রামের মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে।

৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে পারে নিয়ে আসে। পরে এক ব্যক্তি হাত ধরে রাখেন এবং দুই ব্যক্তি মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাকে পেটাচ্ছেন। এ সময় সেলিম জোরে জোরে ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছেন।

এদিকে আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বাঁধা, মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি শুকনা ডাল দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পেটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে ডামুড্যার ইকুরি এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। তার অবস্থা খারাপ দেখে সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে অভিযুক্ত শাহিন ও তার লোকজন।

সোহরাব মোল্লা নামের ইকুরি এলাকার বাসিন্দা বলেন, আমি ফজরের নামাজ পড়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম তখন দেখতে পাই এক ব্যক্তিকে পুকুর থেকে ধরে এনে কয়েকজন লোক পেটাচ্ছেন। পরে বাড়িতে চলে যাই। বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখি ওই একই ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন; যা অমানবিক ঘটনা।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহণ মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর বলেন, চার মাস আগে আমার ঘেরের মাছ চুরি করছে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করি। আমার ৭০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা। আবার ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ভোরে ছয়জন লোকসহ আমার পুকুরে জাল ফেলতে এসে আমার লোকজনকে সেনদা দিয়ে ধাওয়া দিয়েছে সেলিম ও তার লোকজন এবং আমার এক পাহারাদারকে মেরে আহত করেছে। পরে আমার লোকজন ওদের ধাওয়া দিলে ৬ জন পালিয়ে যায়। আর আমার লোকজন সেলিমকে ধরে ফেলে।

পিটানোর সত্যতা স্বীকার করে শাহিন মাদবর বলেন, ঘের আমার আমি পেটাব না, পেটাবে কে?

আহত সেলিম পাইক বলেন, আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চোরের অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

ডামুড্যা থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে যুবকের পা ভেঙে দিলেন প্রজেক্ট মালিক

আপডেট সময় ১০:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাছ ধরার চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের এক যুবককে গাছের ডাল ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাছের ঘেরের মালিক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

ঘের ব্যবসায়ী এবং শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহণ মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নাম্বার ওয়ার্ডের পালং এলাকার শাহিন মাদবরের (৩৮) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

এমন দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুকে দেখা যায় ভিডিওটি।

আহত সেলিম পাইক উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরী গ্রামের মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে।

৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে পারে নিয়ে আসে। পরে এক ব্যক্তি হাত ধরে রাখেন এবং দুই ব্যক্তি মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাকে পেটাচ্ছেন। এ সময় সেলিম জোরে জোরে ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছেন।

এদিকে আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বাঁধা, মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি শুকনা ডাল দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পেটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে ডামুড্যার ইকুরি এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। তার অবস্থা খারাপ দেখে সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে অভিযুক্ত শাহিন ও তার লোকজন।

সোহরাব মোল্লা নামের ইকুরি এলাকার বাসিন্দা বলেন, আমি ফজরের নামাজ পড়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম তখন দেখতে পাই এক ব্যক্তিকে পুকুর থেকে ধরে এনে কয়েকজন লোক পেটাচ্ছেন। পরে বাড়িতে চলে যাই। বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখি ওই একই ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন; যা অমানবিক ঘটনা।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহণ মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর বলেন, চার মাস আগে আমার ঘেরের মাছ চুরি করছে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করি। আমার ৭০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা। আবার ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ভোরে ছয়জন লোকসহ আমার পুকুরে জাল ফেলতে এসে আমার লোকজনকে সেনদা দিয়ে ধাওয়া দিয়েছে সেলিম ও তার লোকজন এবং আমার এক পাহারাদারকে মেরে আহত করেছে। পরে আমার লোকজন ওদের ধাওয়া দিলে ৬ জন পালিয়ে যায়। আর আমার লোকজন সেলিমকে ধরে ফেলে।

পিটানোর সত্যতা স্বীকার করে শাহিন মাদবর বলেন, ঘের আমার আমি পেটাব না, পেটাবে কে?

আহত সেলিম পাইক বলেন, আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চোরের অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

ডামুড্যা থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।