ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

সূর্যকে অনেকেই শুধু আলো-তাপের উৎস ভাবেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে সূর্য এমনভাবে ‘জেগে ওঠে’ যে, পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা পর্যন্ত নড়বড়ে হয়ে যায়। এবার ঠিক তেমনই ঘটনা ঘটেছে। নাসা জানিয়েছে, সূর্য থেকে একসঙ্গে চারটি শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ (সূর্যের পৃষ্ঠে হঠাৎ শক্তিশালী বিস্ফোরণ) বের হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল X8.1 শ্রেণির, যা ২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি সূর্য থেকে তিনটি শক্তিশালী ফ্লেয়ার বের হয়। সেগুলোর সময় ছিল সকাল ৭টা ৩৩ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিট (ইটি সময়)। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে আরেকটি ফ্লেয়ার দেখা যায়। এগুলোর মাত্রা ছিল X1.0, X8.1, X2.8 এবং X1.6।

নাসা বলছে, এসব সৌর ফ্লেয়ার ও সৌর বিস্ফোরণ (Solar eruption) রেডিও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং নেভিগেশন সিগন্যালে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে HF রেডিও (High Frequency—দূরপাল্লার রেডিও যোগাযোগ) ব্যবহারে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ফ্লেয়ার মানুষের শরীরে সরাসরি ক্ষতি করে না। কারণ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডল ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তবে শক্তিশালী জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম (Geomagnetic storm—পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে ঝড়) হলে উচ্চক্ষমতার ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হতে পারে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস এবং নেভিগেশন ব্যবস্থায়ও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ

আপডেট সময় ১০:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

সূর্যকে অনেকেই শুধু আলো-তাপের উৎস ভাবেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে সূর্য এমনভাবে ‘জেগে ওঠে’ যে, পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা পর্যন্ত নড়বড়ে হয়ে যায়। এবার ঠিক তেমনই ঘটনা ঘটেছে। নাসা জানিয়েছে, সূর্য থেকে একসঙ্গে চারটি শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণ (সূর্যের পৃষ্ঠে হঠাৎ শক্তিশালী বিস্ফোরণ) বের হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল X8.1 শ্রেণির, যা ২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি সূর্য থেকে তিনটি শক্তিশালী ফ্লেয়ার বের হয়। সেগুলোর সময় ছিল সকাল ৭টা ৩৩ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিট (ইটি সময়)। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে আরেকটি ফ্লেয়ার দেখা যায়। এগুলোর মাত্রা ছিল X1.0, X8.1, X2.8 এবং X1.6।

নাসা বলছে, এসব সৌর ফ্লেয়ার ও সৌর বিস্ফোরণ (Solar eruption) রেডিও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং নেভিগেশন সিগন্যালে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে HF রেডিও (High Frequency—দূরপাল্লার রেডিও যোগাযোগ) ব্যবহারে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ফ্লেয়ার মানুষের শরীরে সরাসরি ক্ষতি করে না। কারণ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডল ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তবে শক্তিশালী জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম (Geomagnetic storm—পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে ঝড়) হলে উচ্চক্ষমতার ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হতে পারে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস এবং নেভিগেশন ব্যবস্থায়ও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।