ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ভোলা সদর রোডে হাবিব মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সাবিহা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন হাসপাতালটির নার্স, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সাবিহা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পুল এলাকার মো. নাহিদের স্ত্রী ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার আবুল কালামের মেয়ে।

মো. নাহিদসহ স্বজনরা জানান, ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাবিহা আক্তারকে আজ দুপুর ১২টায় হাবিব মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক দেখান। বাড়ি থেকে সুস্থ অবস্থাতেই সাবিহা হেঁটে হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক সাবিহার স্বাভাবিক প্রসব হবে বলে জানান। একপর্যায়ে ওই হাসপাতালের কর্মী পলি সেখানে প্রসবের জন্য সাবিহাকে ভর্তি করতে বাধ্য করেন। কিছুক্ষণ পর এক নার্স সাবিহার প্রসবব্যথা আনার জন্য তাকে কোনো একটি ইনজেকশন দেন। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বেড়ে নিস্তেজ হয়ে মারা যান সাবিহা। ঘটনার পর কৌশলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন সব নার্স ও চিকিৎসক। তবে সাবিহাকে ঠিক কোন চিকিৎসক দেখেছিলেন তার নাম জানাতে পারেননি মো. নাহিদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও নৌবাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা।

তবে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ রাজীব ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ক্লিনিকে আসার আগেই রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি।

হাসপাতালটির মালিক ২৯ জন। তাদের মধ্যে মো. সাদেক এটি পরিচালনা করেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, পারভীন নামে এক গাইনি চিকিৎসক ওই প্রসূতিকে দেখছিলেন। তাঁর পরামর্শেই ওই নারীকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। যখন ওই নারী মারা যান, তখন তিনি জুমার নামাজে ছিলেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারীর মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুহা. মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কী ইনজেকশন দিয়েছে তা দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ভোলা সদর রোডে হাবিব মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সাবিহা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন হাসপাতালটির নার্স, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সাবিহা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পুল এলাকার মো. নাহিদের স্ত্রী ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার আবুল কালামের মেয়ে।

মো. নাহিদসহ স্বজনরা জানান, ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাবিহা আক্তারকে আজ দুপুর ১২টায় হাবিব মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক দেখান। বাড়ি থেকে সুস্থ অবস্থাতেই সাবিহা হেঁটে হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক সাবিহার স্বাভাবিক প্রসব হবে বলে জানান। একপর্যায়ে ওই হাসপাতালের কর্মী পলি সেখানে প্রসবের জন্য সাবিহাকে ভর্তি করতে বাধ্য করেন। কিছুক্ষণ পর এক নার্স সাবিহার প্রসবব্যথা আনার জন্য তাকে কোনো একটি ইনজেকশন দেন। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বেড়ে নিস্তেজ হয়ে মারা যান সাবিহা। ঘটনার পর কৌশলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন সব নার্স ও চিকিৎসক। তবে সাবিহাকে ঠিক কোন চিকিৎসক দেখেছিলেন তার নাম জানাতে পারেননি মো. নাহিদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও নৌবাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা।

তবে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ রাজীব ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ক্লিনিকে আসার আগেই রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি।

হাসপাতালটির মালিক ২৯ জন। তাদের মধ্যে মো. সাদেক এটি পরিচালনা করেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, পারভীন নামে এক গাইনি চিকিৎসক ওই প্রসূতিকে দেখছিলেন। তাঁর পরামর্শেই ওই নারীকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। যখন ওই নারী মারা যান, তখন তিনি জুমার নামাজে ছিলেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারীর মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুহা. মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কী ইনজেকশন দিয়েছে তা দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।