ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ গরমই চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং ইউকসিয়া এবং আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ চীনের অভিজাত মহলে ক্ষমতার লড়াই ও শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

৭৫ বছর বয়সী ঝাং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের একজন প্রধান নেতা ছিলেন। সাধারণত সাত সদস্যের এই কমিশনে এখন কেবল শি জিনপিং এবং জেনারেল ঝাং শেংমিনই রয়ে গেছেন। বাকি সদস্যদের ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অভিযানের নামে সরানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পিএলএ এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, এই ঘটনা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের প্রভাবকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ঝাং ও লিউকে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ‘দুর্নীতি’ এর অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি সংবাদপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’ ইতোমধ্যেই তাদেরকে ‘কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘সামরিক কমিশনকে অবমাননা’ করার দোষী হিসেবে দেখিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব অপসারণ সামরিক বাহিনীতে সন্দেহ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করবে, যা শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত, তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা এবং ভীতি সামরিক কর্মকাণ্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে চীনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকায়, দ্বীপে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত মূলত তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট তাওরের

শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং

আপডেট সময় ০৫:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ গরমই চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং ইউকসিয়া এবং আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ চীনের অভিজাত মহলে ক্ষমতার লড়াই ও শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

৭৫ বছর বয়সী ঝাং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের একজন প্রধান নেতা ছিলেন। সাধারণত সাত সদস্যের এই কমিশনে এখন কেবল শি জিনপিং এবং জেনারেল ঝাং শেংমিনই রয়ে গেছেন। বাকি সদস্যদের ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অভিযানের নামে সরানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পিএলএ এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, এই ঘটনা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের প্রভাবকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ঝাং ও লিউকে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ‘দুর্নীতি’ এর অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি সংবাদপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’ ইতোমধ্যেই তাদেরকে ‘কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘সামরিক কমিশনকে অবমাননা’ করার দোষী হিসেবে দেখিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব অপসারণ সামরিক বাহিনীতে সন্দেহ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করবে, যা শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত, তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা এবং ভীতি সামরিক কর্মকাণ্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে চীনের রাজনৈতিক নেতৃত্বে শি জিনপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকায়, দ্বীপে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত মূলত তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।