ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক জেনার সাথে জড়িত প্রমাণ হলে এমপির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক: হারুনুর রশিদ বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের সব মানুষের অভিন্ন পরিচয়: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: জ্বালানি বিভাগ নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার টাঙ্গাইলে পৃথক হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ৪২ কর্মদিবসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের এমপির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মোংলায় মানববন্ধন

৬ কোটি বছরে পৃথিবীর জলবায়ু কেন বদলে গেল জানালেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবী কীভাবে এক সময়ের উষ্ণ ‘গ্রিনহাউস’ অবস্থা থেকে আজকের বরফে ঢাকা শীতল গ্রহে রূপ নিল— বিজ্ঞানীরা এই বহু পুরোনো প্রশ্নের নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়াই এই বড় পরিবর্তনের প্রধান কারণ। এতে বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড ধীরে ধীরে আটকা পড়ে এবং পৃথিবী ঠান্ডা হতে শুরু করে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের নেতৃত্বে করা এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল পিএনএএস-এ। গবেষণায় দেখা যায়, গত ৬ কোটি ৬০ লাখ বছরে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

গবেষকরা প্রাচীন সমুদ্রের জীবাশ্ম, বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ পরীক্ষা করেন। এসব জীবাশ্মে থাকা রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে তারা দেখেন, আগের যুগে সমুদ্রে বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ছিল। কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে দেখা যায়, ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে সমুদ্র কম কার্বন ধরে রাখতে পারে এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়ে। আর ক্যালসিয়াম কমলে সমুদ্র বেশি কার্বন ধরে রাখে, ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস কমে যায়।

গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক শিয়াওলি ঝৌ জানান, ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক জীবের আচরণও বদলে যায়। তারা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরির মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে রাখে। এতে ধীরে ধীরে গ্যাসটি সমুদ্রের তলদেশে জমা হতে থাকে।

আরেক গবেষক অধ্যাপক ইয়াইর রোজেনথাল বলেন, ক্যালসিয়াম কমার সময়টি সমুদ্রতলের বিস্তার কমে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। অর্থাৎ নতুন সমুদ্রতল তৈরির গতি ধীর হয়। এতে শিলা ও পানির রাসায়নিক গঠন বদলায়। তার মতে, পৃথিবীর গভীর অংশের এই পরিবর্তনই অতীতের জলবায়ু বদলের মূল চাবিকাঠি।

গবেষকদের ধারণা, সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবর্তনই ধাপে ধাপে পৃথিবীর জলবায়ু বদলে দিয়েছে এবং আজকের শীতল পৃথিবীর পথ তৈরি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক

৬ কোটি বছরে পৃথিবীর জলবায়ু কেন বদলে গেল জানালেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ১০:২০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবী কীভাবে এক সময়ের উষ্ণ ‘গ্রিনহাউস’ অবস্থা থেকে আজকের বরফে ঢাকা শীতল গ্রহে রূপ নিল— বিজ্ঞানীরা এই বহু পুরোনো প্রশ্নের নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়াই এই বড় পরিবর্তনের প্রধান কারণ। এতে বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড ধীরে ধীরে আটকা পড়ে এবং পৃথিবী ঠান্ডা হতে শুরু করে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের নেতৃত্বে করা এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল পিএনএএস-এ। গবেষণায় দেখা যায়, গত ৬ কোটি ৬০ লাখ বছরে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

গবেষকরা প্রাচীন সমুদ্রের জীবাশ্ম, বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ পরীক্ষা করেন। এসব জীবাশ্মে থাকা রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে তারা দেখেন, আগের যুগে সমুদ্রে বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ছিল। কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে দেখা যায়, ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে সমুদ্র কম কার্বন ধরে রাখতে পারে এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়ে। আর ক্যালসিয়াম কমলে সমুদ্র বেশি কার্বন ধরে রাখে, ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস কমে যায়।

গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক শিয়াওলি ঝৌ জানান, ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক জীবের আচরণও বদলে যায়। তারা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরির মাধ্যমে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে রাখে। এতে ধীরে ধীরে গ্যাসটি সমুদ্রের তলদেশে জমা হতে থাকে।

আরেক গবেষক অধ্যাপক ইয়াইর রোজেনথাল বলেন, ক্যালসিয়াম কমার সময়টি সমুদ্রতলের বিস্তার কমে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। অর্থাৎ নতুন সমুদ্রতল তৈরির গতি ধীর হয়। এতে শিলা ও পানির রাসায়নিক গঠন বদলায়। তার মতে, পৃথিবীর গভীর অংশের এই পরিবর্তনই অতীতের জলবায়ু বদলের মূল চাবিকাঠি।

গবেষকদের ধারণা, সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবর্তনই ধাপে ধাপে পৃথিবীর জলবায়ু বদলে দিয়েছে এবং আজকের শীতল পৃথিবীর পথ তৈরি করেছে।