ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় অগ্রগতি, প্লাটিনামের বিকল্প পেলেন গবেষকরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে প্লাটিনাম ছাড়াই হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন সুইডেনের গবেষকরা। এই সাফল্য সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ অনেক কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সুইডেনের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক দলটি এই গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস-এ।

হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ খুব কম হয়। কারণ এটি ব্যবহার করলে উৎপাদন হিসেবে শুধু পানি তৈরি হয়। কিন্তু এতদিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে প্লাটিনাম নামে একটি দামী ধাতু ব্যবহার করতে হতো। এই ধাতু খুবই বিরল এবং মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ায় পাওয়া যায়। প্লাটিনাম উত্তোলন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি এর উচ্চমূল্য বড় আকারে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা প্লাটিনামের বদলে ব্যবহার করেছেন পরিবাহী প্লাস্টিকের (বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে এমন প্লাস্টিক) তৈরি অতি ক্ষুদ্র কণা, যেগুলোকে ন্যানোপার্টিকল বলা হয়। গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক এরগ্যাং ওয়াং জানান, তারা প্লাস্টিকের গঠন অণুস্তরে পরিবর্তন করেছেন। এতে প্লাস্টিকটি পানির সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারে এবং আলো শোষণ করে সহজে হাইড্রোজেনে রূপান্তর করতে পারে।

ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সূর্যালোকের মতো আলো পানিভর্তি পাত্রে থাকা এই কণার ওপর ফেললে সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোজেনের বুদ্‌বুদ তৈরি হয়। গবেষকদের দাবি, মাত্র এক গ্রাম এই প্লাস্টিক উপাদান এক ঘণ্টায় প্রায় ৩০ লিটার হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারে।

তবে এখনো একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ভিটামিন সি ব্যবহার করতে হয়, যাতে বিক্রিয়া মাঝপথে থেমে না যায়। গবেষকরা জানান, ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত রাসায়নিক ছাড়াই শুধু পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে পানি ভাঙার (একসঙ্গে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন উৎপাদন) লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। এতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তবে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন বলে আশাবাদী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় অগ্রগতি, প্লাটিনামের বিকল্প পেলেন গবেষকরা

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে প্লাটিনাম ছাড়াই হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন সুইডেনের গবেষকরা। এই সাফল্য সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ অনেক কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সুইডেনের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক দলটি এই গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস-এ।

হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ খুব কম হয়। কারণ এটি ব্যবহার করলে উৎপাদন হিসেবে শুধু পানি তৈরি হয়। কিন্তু এতদিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে প্লাটিনাম নামে একটি দামী ধাতু ব্যবহার করতে হতো। এই ধাতু খুবই বিরল এবং মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ায় পাওয়া যায়। প্লাটিনাম উত্তোলন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি এর উচ্চমূল্য বড় আকারে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা প্লাটিনামের বদলে ব্যবহার করেছেন পরিবাহী প্লাস্টিকের (বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে এমন প্লাস্টিক) তৈরি অতি ক্ষুদ্র কণা, যেগুলোকে ন্যানোপার্টিকল বলা হয়। গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক এরগ্যাং ওয়াং জানান, তারা প্লাস্টিকের গঠন অণুস্তরে পরিবর্তন করেছেন। এতে প্লাস্টিকটি পানির সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারে এবং আলো শোষণ করে সহজে হাইড্রোজেনে রূপান্তর করতে পারে।

ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সূর্যালোকের মতো আলো পানিভর্তি পাত্রে থাকা এই কণার ওপর ফেললে সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোজেনের বুদ্‌বুদ তৈরি হয়। গবেষকদের দাবি, মাত্র এক গ্রাম এই প্লাস্টিক উপাদান এক ঘণ্টায় প্রায় ৩০ লিটার হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারে।

তবে এখনো একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ভিটামিন সি ব্যবহার করতে হয়, যাতে বিক্রিয়া মাঝপথে থেমে না যায়। গবেষকরা জানান, ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত রাসায়নিক ছাড়াই শুধু পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে পানি ভাঙার (একসঙ্গে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন উৎপাদন) লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। এতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তবে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন বলে আশাবাদী।