ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

চীনে তিন লাখ বছরের পুরনো মানব ফসিল আবিস্কারের দাবি

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

চীনে তিন লক্ষ বছরের পুরনো মানব ফসিল আবিস্কার করেছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। সে সময়ের মানুষেরা বিবর্তনের মাধ্যমে পরবর্তীতে হোমোসেপিয়ানদের রূপ পায়। এরপর হোমোসেপিয়ানদের অর্জন আধুনিক সব মানুষ ধারন করে। তারা পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের ডংঝি কাউন্টি’র হুয়ালংডং সাইটে মানব ফসিলের সাথে অন্যান্য প্রানীর হাড়গোড় এবং বেশ কিছু পাথরের তৈরি যন্ত্রপাতিও উম্মোচন করেছে।

চীনা গবেষকরা ডংঝিতে শুক্রবার থেকে থেকে রবিবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এক একাডেমিক সম্মেলনে হুয়ালংডং সাইটের এই আবিস্কারের কথা তুলে ধরেছে। দেশি-বিদেশি প্রায় ১০০ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিজ্ঞানী ঐ একাডেমিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে হুয়ালংডং সাইটের আবিস্কার। খনন শুরু ২০১৩ সালে। এরপর হুয়ালংডং সাইট থেকে সম্পূর্ণ মাথার খুলিসহ প্রায় বিশটি মানুষের ফসিল, চার শতাধিক পাথরের তৈরি শিল্পকর্ম, অনেকগুলো হাড়ের অংশ- যা কাটাকাটিতে ব্যবহৃত হত এবং ৮০টির বেশি মেরুদন্ডী প্রাণির ফসিল আবিস্কৃত হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের একটা দল সাইটটির ৪০ বর্গমিটার এলাকায় নতুনভাবে খোঁড়াখুড়ি করে। তারা ১১ টি মানব ফসিল, ভালভাবে সনাক্তযোগ্য পায়ের পাতার হাড়, উরুর একটা হাড়ের অংশ, একটা ভাঙ্গা হাড় এবং আটটা মাথার খুলির অংশ বিশেষ আবিস্কার করে।

চীনের একাডেমি অব সায়েন্সের জীবাশ্ম বিজ্ঞানী ও খননকারী দলের প্রধান উ শিউজি বলেন, এই আবিস্কারগুলোর আলোকে ধারণা করা যায় যে, ঐ সাইটটিতে এক সময় ২০ জনের বেশি মানুষের একটা বড় পরিবার বাস করত। ওখানে তাদের একটা ডাইনিং হল ছিল, যেখানে তারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরনের কাজে কাটাকাটিও করত। রাতের বেলা বন্যপ্রাণিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ওখানে একটা গর্তের মত ছিল যেটাকে তাদের বেডরুম বলা যেতে পারে। যা এখন ধ্বংস প্রায়।

উ শিউজি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে অনুসন্ধান খননে আরো ফসিল এই সাইট থেকে আবিস্কৃত হতে পারে। ২০১৫ সালে হুয়ালংডং সাইটে একটা মাথার খুলির ফসিল পাওয়া যায়। যেটাকে গবেষকরা একটা ১৩ থেকে ১৪ বছরের মেয়ের মাথা বলে মনে করেছেন। মেয়েটির মাথার ওই খুলিটিতে অতীত এবং বর্তমান মানুষের মধ্যেকার এক অসাধারন ঐক্যতান খুঁজে পাওয়া যায়। মুখের গঠনটা আগের দিনের মানুষের বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক মানুষ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। বলে সমতল মুখের কথা, চোখের হাই সকেট, সরু মাথার খুলি এবং মাড়ির কথা। আর এসবই বলে আমাদের চিবুকের বিকাশের কথা। মেয়েটি দেখতে আমাদের মতই ছিল কিছু প্রাচীন চিহ্ন বাদে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

চীনে তিন লাখ বছরের পুরনো মানব ফসিল আবিস্কারের দাবি

আপডেট সময় ১১:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

চীনে তিন লক্ষ বছরের পুরনো মানব ফসিল আবিস্কার করেছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। সে সময়ের মানুষেরা বিবর্তনের মাধ্যমে পরবর্তীতে হোমোসেপিয়ানদের রূপ পায়। এরপর হোমোসেপিয়ানদের অর্জন আধুনিক সব মানুষ ধারন করে। তারা পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের ডংঝি কাউন্টি’র হুয়ালংডং সাইটে মানব ফসিলের সাথে অন্যান্য প্রানীর হাড়গোড় এবং বেশ কিছু পাথরের তৈরি যন্ত্রপাতিও উম্মোচন করেছে।

চীনা গবেষকরা ডংঝিতে শুক্রবার থেকে থেকে রবিবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এক একাডেমিক সম্মেলনে হুয়ালংডং সাইটের এই আবিস্কারের কথা তুলে ধরেছে। দেশি-বিদেশি প্রায় ১০০ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিজ্ঞানী ঐ একাডেমিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে হুয়ালংডং সাইটের আবিস্কার। খনন শুরু ২০১৩ সালে। এরপর হুয়ালংডং সাইট থেকে সম্পূর্ণ মাথার খুলিসহ প্রায় বিশটি মানুষের ফসিল, চার শতাধিক পাথরের তৈরি শিল্পকর্ম, অনেকগুলো হাড়ের অংশ- যা কাটাকাটিতে ব্যবহৃত হত এবং ৮০টির বেশি মেরুদন্ডী প্রাণির ফসিল আবিস্কৃত হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের একটা দল সাইটটির ৪০ বর্গমিটার এলাকায় নতুনভাবে খোঁড়াখুড়ি করে। তারা ১১ টি মানব ফসিল, ভালভাবে সনাক্তযোগ্য পায়ের পাতার হাড়, উরুর একটা হাড়ের অংশ, একটা ভাঙ্গা হাড় এবং আটটা মাথার খুলির অংশ বিশেষ আবিস্কার করে।

চীনের একাডেমি অব সায়েন্সের জীবাশ্ম বিজ্ঞানী ও খননকারী দলের প্রধান উ শিউজি বলেন, এই আবিস্কারগুলোর আলোকে ধারণা করা যায় যে, ঐ সাইটটিতে এক সময় ২০ জনের বেশি মানুষের একটা বড় পরিবার বাস করত। ওখানে তাদের একটা ডাইনিং হল ছিল, যেখানে তারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরনের কাজে কাটাকাটিও করত। রাতের বেলা বন্যপ্রাণিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ওখানে একটা গর্তের মত ছিল যেটাকে তাদের বেডরুম বলা যেতে পারে। যা এখন ধ্বংস প্রায়।

উ শিউজি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে অনুসন্ধান খননে আরো ফসিল এই সাইট থেকে আবিস্কৃত হতে পারে। ২০১৫ সালে হুয়ালংডং সাইটে একটা মাথার খুলির ফসিল পাওয়া যায়। যেটাকে গবেষকরা একটা ১৩ থেকে ১৪ বছরের মেয়ের মাথা বলে মনে করেছেন। মেয়েটির মাথার ওই খুলিটিতে অতীত এবং বর্তমান মানুষের মধ্যেকার এক অসাধারন ঐক্যতান খুঁজে পাওয়া যায়। মুখের গঠনটা আগের দিনের মানুষের বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক মানুষ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। বলে সমতল মুখের কথা, চোখের হাই সকেট, সরু মাথার খুলি এবং মাড়ির কথা। আর এসবই বলে আমাদের চিবুকের বিকাশের কথা। মেয়েটি দেখতে আমাদের মতই ছিল কিছু প্রাচীন চিহ্ন বাদে।