ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি! বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমির হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা বের হওয়া সব জাহাজ আটকানো হবে: ট্রাম্প

শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) বালিকা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সি এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মামুন ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমানের শ্যালক বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে আব্দুর রহিম ওরফে মামুন ওই ছাত্রীকে তার কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে চার্জার নিয়ে ওই শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। ওই ছাত্রী চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেন মামুন। বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই ছাত্রীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকার কারণে সে কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনার কিছু দিন পর মাদ্রাসা বন্ধের ছুটি হলে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে জানায়। মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা শুনে তার মা ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে শনিবার রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফেজা শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা বেগমের (৪০) কাছে বিষয়টি জানালে তারা ধামাচাপা দিয়ে দায়সারাভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ১২ পারা কোরআনের হাফেজা বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান গেটে তালা ঝুলানো। সাইনবোর্ডে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন দিলে কথা হয় প্রধান পরিচালক আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ঘটনার আগের দিন থেকে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছি।

শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের হেনস্তা ও চরিতার্থ করার স্বার্থে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আব্দুর রহমান আরও বলেন, তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করলে টাকা না দেওয়ায় আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) বালিকা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সি এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মামুন ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমানের শ্যালক বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে আব্দুর রহিম ওরফে মামুন ওই ছাত্রীকে তার কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে চার্জার নিয়ে ওই শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। ওই ছাত্রী চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেন মামুন। বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই ছাত্রীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকার কারণে সে কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনার কিছু দিন পর মাদ্রাসা বন্ধের ছুটি হলে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে জানায়। মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা শুনে তার মা ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে শনিবার রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফেজা শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা বেগমের (৪০) কাছে বিষয়টি জানালে তারা ধামাচাপা দিয়ে দায়সারাভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ১২ পারা কোরআনের হাফেজা বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান গেটে তালা ঝুলানো। সাইনবোর্ডে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন দিলে কথা হয় প্রধান পরিচালক আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ঘটনার আগের দিন থেকে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছি।

শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের হেনস্তা ও চরিতার্থ করার স্বার্থে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আব্দুর রহমান আরও বলেন, তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করলে টাকা না দেওয়ায় আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।