ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড

শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) বালিকা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সি এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মামুন ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমানের শ্যালক বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে আব্দুর রহিম ওরফে মামুন ওই ছাত্রীকে তার কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে চার্জার নিয়ে ওই শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। ওই ছাত্রী চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেন মামুন। বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই ছাত্রীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকার কারণে সে কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনার কিছু দিন পর মাদ্রাসা বন্ধের ছুটি হলে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে জানায়। মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা শুনে তার মা ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে শনিবার রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফেজা শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা বেগমের (৪০) কাছে বিষয়টি জানালে তারা ধামাচাপা দিয়ে দায়সারাভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ১২ পারা কোরআনের হাফেজা বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান গেটে তালা ঝুলানো। সাইনবোর্ডে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন দিলে কথা হয় প্রধান পরিচালক আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ঘটনার আগের দিন থেকে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছি।

শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের হেনস্তা ও চরিতার্থ করার স্বার্থে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আব্দুর রহমান আরও বলেন, তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করলে টাকা না দেওয়ায় আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান

শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) বালিকা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সি এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মামুন ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমানের শ্যালক বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে আব্দুর রহিম ওরফে মামুন ওই ছাত্রীকে তার কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে চার্জার নিয়ে ওই শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। ওই ছাত্রী চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেন মামুন। বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই ছাত্রীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকার কারণে সে কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনার কিছু দিন পর মাদ্রাসা বন্ধের ছুটি হলে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে জানায়। মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা শুনে তার মা ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে শনিবার রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফেজা শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা বেগমের (৪০) কাছে বিষয়টি জানালে তারা ধামাচাপা দিয়ে দায়সারাভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ১২ পারা কোরআনের হাফেজা বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান গেটে তালা ঝুলানো। সাইনবোর্ডে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন দিলে কথা হয় প্রধান পরিচালক আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি আমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ঘটনার আগের দিন থেকে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছি।

শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের হেনস্তা ও চরিতার্থ করার স্বার্থে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আব্দুর রহমান আরও বলেন, তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করলে টাকা না দেওয়ায় আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।