ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের এলএনজি জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল সৌদি আরব

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।