ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।