ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার রুমমেট যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শিশুদের জন্য বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়ার ওষুধ অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।