ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক আওয়ামী লীগের নৈতিক সাহস নেই, নাশকতার ক্ষমতা আছে : ডা. জাহেদ নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী জনগণ ঐক্যবদ্ধ, দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না: রিজভী ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের বিক্ষোভ শেষে সাংবাদিকের ওপর হামলা পেপ্যালসহ কয়েকটি প্ল্যাটফরম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে : অর্থমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জোড়া গোলে শীর্ষ ছুঁলেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে ২-০তে হারাল আর্জেন্টিনা মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য : মাহদী আমিন পেনশন কার্যক্রম দ্রুত সম্পাদনে সিএজি’র নির্দেশনা

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক

শিশুকে ভয় দেখাতে জিনের কথা বলে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।