ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

নির্যাতন শেষে স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি স্বামীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রথমে স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন স্বামী ইয়াসিন আকন। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পরকীয়ার মিথ্যা স্বীকরোক্তি আদায় করে তা রেকর্ড করেন। এরপরই শুরু করেন শারীরিক নির্যাতন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ত্রী মিম আক্তারের (১৮) শরীরের কোথাও মারতে বাদ রাখেননি স্বামী। কালো ছোপ ছোপ দাগ তার সমস্ত শরীরে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন এই কিশোরী বধূ। নির্যাতনের দুদিন পর শশুর বাড়ির লোকজনকে ফোন করে তাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে বেলন ইয়াসিন। পরে পরিবারের লোকজন শুক্রবার রাতে স্বমীর বাড়ি থেকে মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মধ্যযুগীয় বর্বরতার এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার দিবাগত রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামে।

নির্যাতরে শিকার মিম আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার ১ নম্বর ধানসাগর ইউনিয়নের মালের বেপারীর মেয়ে মিম আক্তারের সঙ্গে ৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের সুলতান আকনের ছেলে ইয়াসিন আকন (২৮) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি মিমের পরিবার। একপর্যায়ে সম্পর্কের ১১ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর পরিবারের অমতে পালিয়ে ইয়াসিনকে বিয়ে করেন মিম। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকর দাবি করে আসছিলেন ইয়াসিন। তার দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে এই নির্যাতন করা হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মিম আক্তার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিন বছর আগে প্রেম করে আমার পরিবারের অমতে ইয়াসিনকে বিয়ে করি। আমার স্বামী কার্গো জাহাজে (লাইটার জাহাজ) চাকরি করে। সে কারণে দুই-তিন মাস পর পর বাড়িতে আসে। বাড়িতে এসেই ব্যাংকে আমার নামে বাবার জমা রাখা দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে শারীরিক নির্যাতন করতো। ঘটনার দিন বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে জাহাজ থেকে বাড়িতে আসে। ওই রাতে এসেই আমার বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এরপর আমাকে বিবস্ত্র করে তা মোবাইলে ভিডিও করে। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার মুখ থেকে জোরপূর্বক পরকীয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করে তা রেকর্ড করে।

সবকিছু ভিডিও করার পর ইয়াসিন (স্বামী) আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে মোটা দড়ি দিয়ে চাবুক বানিয়ে তা দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটাতে থাকে। আমি চিৎকার করলে আমার মুখের মধ্যে ওড়না ঢুকিয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমার গলায় ওড়না পেচিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। আমার শরীরের সমস্ত জায়গায় রক্ত জমাট বেধে গেছে। এ অবস্থায় আমাকে চিকিৎসা না করিয়ে আটকে রাখে। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুদিন পরে আমার মা-বাবাকে ফোন করে আমাকে নিয়ে যেতে বলে। পরে তারা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে হাসপতালে ভর্তি করেন। আমার স্বামীর সঙ্গে তার প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। সেই দোষ ঢাকতে উল্টো আমার নামে পরকীয়ার অভিযোগ করছে। আমার সমস্ত শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে। আমি এমন স্বামীর সংসার করতে চাই না। এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।

মিমের বাবা আ. মালেক বেপারী বলেন, আমরা আগে থেকেই ইয়াসিনের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জানি। সেকারণেই ওর সঙ্গে বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম না। বিয়ের আগেই মেয়ের নামে আমি দুই লাখ টাকা ব্যাংকে রেখেছি। সেটা জানতে পেরে ইয়াসিন সেই টাকা চেয়ে মেয়েকে বার বার নির্যাতন করে চলেছে। এঘটনায় মামলা করা হবে।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ববি সাহা বলেন, মিমের শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাধাসহ মারাত্মক আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মিমের স্বামী মো. ইয়াসিন আকনের কাছে জানতে চাইলে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী অন্য এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করে। আমার কাছে সে স্বীকার করেছে পরকীয়ার কথা। তবে আমার বিরুদ্ধে যৌতুক এবং ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, মিম আক্তারকে নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

নির্যাতন শেষে স্ত্রীর নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি স্বামীর

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রথমে স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন স্বামী ইয়াসিন আকন। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পরকীয়ার মিথ্যা স্বীকরোক্তি আদায় করে তা রেকর্ড করেন। এরপরই শুরু করেন শারীরিক নির্যাতন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ত্রী মিম আক্তারের (১৮) শরীরের কোথাও মারতে বাদ রাখেননি স্বামী। কালো ছোপ ছোপ দাগ তার সমস্ত শরীরে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন এই কিশোরী বধূ। নির্যাতনের দুদিন পর শশুর বাড়ির লোকজনকে ফোন করে তাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে বেলন ইয়াসিন। পরে পরিবারের লোকজন শুক্রবার রাতে স্বমীর বাড়ি থেকে মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মধ্যযুগীয় বর্বরতার এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার দিবাগত রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামে।

নির্যাতরে শিকার মিম আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার ১ নম্বর ধানসাগর ইউনিয়নের মালের বেপারীর মেয়ে মিম আক্তারের সঙ্গে ৩ নম্বর রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের সুলতান আকনের ছেলে ইয়াসিন আকন (২৮) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি মিমের পরিবার। একপর্যায়ে সম্পর্কের ১১ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর পরিবারের অমতে পালিয়ে ইয়াসিনকে বিয়ে করেন মিম। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকর দাবি করে আসছিলেন ইয়াসিন। তার দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে এই নির্যাতন করা হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মিম আক্তার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিন বছর আগে প্রেম করে আমার পরিবারের অমতে ইয়াসিনকে বিয়ে করি। আমার স্বামী কার্গো জাহাজে (লাইটার জাহাজ) চাকরি করে। সে কারণে দুই-তিন মাস পর পর বাড়িতে আসে। বাড়িতে এসেই ব্যাংকে আমার নামে বাবার জমা রাখা দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে শারীরিক নির্যাতন করতো। ঘটনার দিন বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে জাহাজ থেকে বাড়িতে আসে। ওই রাতে এসেই আমার বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এরপর আমাকে বিবস্ত্র করে তা মোবাইলে ভিডিও করে। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার মুখ থেকে জোরপূর্বক পরকীয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করে তা রেকর্ড করে।

সবকিছু ভিডিও করার পর ইয়াসিন (স্বামী) আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে মোটা দড়ি দিয়ে চাবুক বানিয়ে তা দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটাতে থাকে। আমি চিৎকার করলে আমার মুখের মধ্যে ওড়না ঢুকিয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমার গলায় ওড়না পেচিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। আমার শরীরের সমস্ত জায়গায় রক্ত জমাট বেধে গেছে। এ অবস্থায় আমাকে চিকিৎসা না করিয়ে আটকে রাখে। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুদিন পরে আমার মা-বাবাকে ফোন করে আমাকে নিয়ে যেতে বলে। পরে তারা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে হাসপতালে ভর্তি করেন। আমার স্বামীর সঙ্গে তার প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। সেই দোষ ঢাকতে উল্টো আমার নামে পরকীয়ার অভিযোগ করছে। আমার সমস্ত শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে। আমি এমন স্বামীর সংসার করতে চাই না। এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।

মিমের বাবা আ. মালেক বেপারী বলেন, আমরা আগে থেকেই ইয়াসিনের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জানি। সেকারণেই ওর সঙ্গে বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম না। বিয়ের আগেই মেয়ের নামে আমি দুই লাখ টাকা ব্যাংকে রেখেছি। সেটা জানতে পেরে ইয়াসিন সেই টাকা চেয়ে মেয়েকে বার বার নির্যাতন করে চলেছে। এঘটনায় মামলা করা হবে।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ববি সাহা বলেন, মিমের শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাধাসহ মারাত্মক আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মিমের স্বামী মো. ইয়াসিন আকনের কাছে জানতে চাইলে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী অন্য এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করে। আমার কাছে সে স্বীকার করেছে পরকীয়ার কথা। তবে আমার বিরুদ্ধে যৌতুক এবং ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, মিম আক্তারকে নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।