ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিকলে বেঁধে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার পাথরঘাটায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুলু বেগম (৪২) নামে এক নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকচিড়া গ্রামে একটি ঘরে ওই নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার বাড়ির গাছ কেটে ফেলে প্রতিবেশী রাজ্জাকের ছেলে শাহ-জালাল আকন। তিনি বাধা প্রদান করলে তাকে শাহজালাল, তার ভাই ফেরদাউস আকন ও সালমা বেগম নামে এক নারী জোর করে ধরে নিয়ে পায়ে শিকলে বেঁধে ২ ঘণ্টা ধরে শাহজালালের ঘরে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে তার ছেলে-মেয়ে ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ওই নারী আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারী এখন পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জানান, ওই নারীর পায়ে ও মাথায় জখম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাকচিড়া গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আকন নির্যাতিত ওই পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি ডিসি অফিসে চাকরি করেন পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ফেরদাউস আকন মাদক সেবন করেন ও এর ব্যবসা করেন।

নির্যাতনের বিষয় এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে ফেরদাউস আকনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রোববার পাথরঘাটায় দেখা করেন। প্রতিবেদকের সামনেই নির্যাতিত নারীর ছেলেকে উদ্দেশ করে মোবাইল ফোনে একজনকে বলেন- ‘ওকে বিচরা টাকা-পয়সা যা লাগে দিতাছি, আমি আইতাছি। আমি ডিসি অফিসে চাকরি করি; কথা বোঝ নাই। ওরে টানাইয়া পিডা, এরপর ধরে আনব।’

এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। পরে তিনি নির্যাতনের বিষয় কোনো কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

ভুক্তভোগী ওই নারীর ছেলে মো. জিলানী বলেন, আমার মাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয় খবর শুনে গিয়ে মাকে উদ্ধার করি। এ সময় ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। পরে মাকে নিয়ে পাথরঘাটা হাসপাতালে আসি। মা এখন চিকিৎসাধীন। আমাদের বাড়িছাড়া করবেন, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন ফেরদাউস আকন। আমরা এখন আতঙ্কিত।

কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান, গত শনিবারের নির্যাতনের ঘটনা আমি শুনিনি, তবে ওরা দুই ভাই লোক ভালো না। এর আগে কয়েকবার ওই নারীকে নির্যাতন করেছেন। আমার সামনেও একবার এ ঘটনা ঘটেছে। ওরা খারাপ প্রকৃতির লোক।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

শিকলে বেঁধে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বরগুনার পাথরঘাটায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুলু বেগম (৪২) নামে এক নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকচিড়া গ্রামে একটি ঘরে ওই নারীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার বাড়ির গাছ কেটে ফেলে প্রতিবেশী রাজ্জাকের ছেলে শাহ-জালাল আকন। তিনি বাধা প্রদান করলে তাকে শাহজালাল, তার ভাই ফেরদাউস আকন ও সালমা বেগম নামে এক নারী জোর করে ধরে নিয়ে পায়ে শিকলে বেঁধে ২ ঘণ্টা ধরে শাহজালালের ঘরে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে তার ছেলে-মেয়ে ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ওই নারী আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারী এখন পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জানান, ওই নারীর পায়ে ও মাথায় জখম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাকচিড়া গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আকন নির্যাতিত ওই পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি ডিসি অফিসে চাকরি করেন পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ফেরদাউস আকন মাদক সেবন করেন ও এর ব্যবসা করেন।

নির্যাতনের বিষয় এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে ফেরদাউস আকনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রোববার পাথরঘাটায় দেখা করেন। প্রতিবেদকের সামনেই নির্যাতিত নারীর ছেলেকে উদ্দেশ করে মোবাইল ফোনে একজনকে বলেন- ‘ওকে বিচরা টাকা-পয়সা যা লাগে দিতাছি, আমি আইতাছি। আমি ডিসি অফিসে চাকরি করি; কথা বোঝ নাই। ওরে টানাইয়া পিডা, এরপর ধরে আনব।’

এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। পরে তিনি নির্যাতনের বিষয় কোনো কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

ভুক্তভোগী ওই নারীর ছেলে মো. জিলানী বলেন, আমার মাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয় খবর শুনে গিয়ে মাকে উদ্ধার করি। এ সময় ফেরদাউস আকন ও তার ভাই শাহজালাল আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। পরে মাকে নিয়ে পাথরঘাটা হাসপাতালে আসি। মা এখন চিকিৎসাধীন। আমাদের বাড়িছাড়া করবেন, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন ফেরদাউস আকন। আমরা এখন আতঙ্কিত।

কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু জানান, গত শনিবারের নির্যাতনের ঘটনা আমি শুনিনি, তবে ওরা দুই ভাই লোক ভালো না। এর আগে কয়েকবার ওই নারীকে নির্যাতন করেছেন। আমার সামনেও একবার এ ঘটনা ঘটেছে। ওরা খারাপ প্রকৃতির লোক।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।