ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইএমএফ থেকে আমরা অবশ্যই ঋণ পাবো: মন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাজেট সহায়তা শর্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা হবে বন্ধুর মতো, মহাজনের মতো নয়। তবে এটা বলতে পারি আইএমএফ থেকে অবশ্যই আমরা ঋণ পাবো, এটা গ্যারান্টি।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘ডিজেএফবি উন্নয়ন সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ডিজেএফবির সভাপতি হামিদ-উজ-জামান। সংলাপ সঞ্চালনা করেন ডিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহিন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আইএমএফ আমাদেরই অংশ। এর আগেও আমরা আইএমএফ থেকে ঋণ পেয়েছি। তাদের এদেশে আসাটা একটা রুটিন ওয়ার্ক। আমাদের অর্থনীতি বড়, আমাদের অর্থের ক্ষুধা আছে। তাই আমরা আগের তুলনায় বেশি ঋণ চেয়েছি। আমরা অবশ্যই ঋণ পাবো।

শর্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কিছু শর্ততো থাকে। বন্ধুর কাছেও তো টাকা ধার নিলে বলে কবে টাকা ফেরত দিবি। আইএমএফ আসবে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে বন্ধুর মতো। কিন্তু মহাজনের মতো নয়।

ভারতীয় ঋণের অর্থ ছাড়ের প্রবাহ কম উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেছেন। সেখানে নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আশা করি এই সফরের মাধ্যমে তাদের ঋণের অর্থের প্রবাহ বাড়বে। আমাদের প্রকল্পগুলোর আরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, এই ঋণগুলো অনেকটা আমলা নির্ভর। তাদের দেশের সচিবালয় বলে আমরা তাদের সহযোগিতা করি না আমাদের দেশের সচিবালয় কর্তারা বলেন তারা আমাদের সহযোগিতা করে না। আশা করি এ জটিলতা শিগগিরই কাটবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনীতির খাদে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কিনারেই দাঁড়িয়ে গেছে। পেছনে ফেরা শুরু হয়নি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আশাকরি অক্টোবরে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে। মূল্যস্ফীতি অক্টোবর মাসে কমে আসতে পারে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বাড়তে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ হলে আমাদের জন্য আনন্দ দায়ক হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি সব সমাজে আছে। কিন্তু আমাদের সমাজে দুর্নীতি দৃশ্যমান। প্রকল্পের দুর্নীতি কমাতে অনেক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

তেলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল ভয়ঙ্কর একটা জিনিস। এর দামের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তেলে দাম আইএমএফের পরামর্শে বাড়ানো হয়নি। নিজেদের প্রয়োজনে করা হয়েছে। তেলের এই দাম এখন কমতে শুরু করেছে। সামনে আরও কমবে। তবে সেটি আগের দামের পর্যায়ে যাবে না।

টাকার মান প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন কোকের মুখ বন্ধ থাকলে হঠাৎ খোলার পর ফোস করে শব্দ হয়। তেমনি দীর্ঘদিন টাকার মান ধরে রেখে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ায় এতো আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইএমএফ থেকে আমরা অবশ্যই ঋণ পাবো: মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাজেট সহায়তা শর্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা হবে বন্ধুর মতো, মহাজনের মতো নয়। তবে এটা বলতে পারি আইএমএফ থেকে অবশ্যই আমরা ঋণ পাবো, এটা গ্যারান্টি।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘ডিজেএফবি উন্নয়ন সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ডিজেএফবির সভাপতি হামিদ-উজ-জামান। সংলাপ সঞ্চালনা করেন ডিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহিন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আইএমএফ আমাদেরই অংশ। এর আগেও আমরা আইএমএফ থেকে ঋণ পেয়েছি। তাদের এদেশে আসাটা একটা রুটিন ওয়ার্ক। আমাদের অর্থনীতি বড়, আমাদের অর্থের ক্ষুধা আছে। তাই আমরা আগের তুলনায় বেশি ঋণ চেয়েছি। আমরা অবশ্যই ঋণ পাবো।

শর্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কিছু শর্ততো থাকে। বন্ধুর কাছেও তো টাকা ধার নিলে বলে কবে টাকা ফেরত দিবি। আইএমএফ আসবে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে বন্ধুর মতো। কিন্তু মহাজনের মতো নয়।

ভারতীয় ঋণের অর্থ ছাড়ের প্রবাহ কম উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেছেন। সেখানে নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আশা করি এই সফরের মাধ্যমে তাদের ঋণের অর্থের প্রবাহ বাড়বে। আমাদের প্রকল্পগুলোর আরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, এই ঋণগুলো অনেকটা আমলা নির্ভর। তাদের দেশের সচিবালয় বলে আমরা তাদের সহযোগিতা করি না আমাদের দেশের সচিবালয় কর্তারা বলেন তারা আমাদের সহযোগিতা করে না। আশা করি এ জটিলতা শিগগিরই কাটবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনীতির খাদে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কিনারেই দাঁড়িয়ে গেছে। পেছনে ফেরা শুরু হয়নি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আশাকরি অক্টোবরে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে। মূল্যস্ফীতি অক্টোবর মাসে কমে আসতে পারে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বাড়তে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ হলে আমাদের জন্য আনন্দ দায়ক হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি সব সমাজে আছে। কিন্তু আমাদের সমাজে দুর্নীতি দৃশ্যমান। প্রকল্পের দুর্নীতি কমাতে অনেক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

তেলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল ভয়ঙ্কর একটা জিনিস। এর দামের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তেলে দাম আইএমএফের পরামর্শে বাড়ানো হয়নি। নিজেদের প্রয়োজনে করা হয়েছে। তেলের এই দাম এখন কমতে শুরু করেছে। সামনে আরও কমবে। তবে সেটি আগের দামের পর্যায়ে যাবে না।

টাকার মান প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন কোকের মুখ বন্ধ থাকলে হঠাৎ খোলার পর ফোস করে শব্দ হয়। তেমনি দীর্ঘদিন টাকার মান ধরে রেখে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ায় এতো আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।