ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের দিন রামিসার পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ, জানালেন সমবেদনা ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা জানিয়ে ওমানের পাশে থাকার ঘোষণা ইরানের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী তদন্তের প্রেক্ষিতে আদ্-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাল ইরান ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে বাবা নাজেহাল, ওসি প্রত্যাহার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হাতে এক পিতা নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই-এর পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনকে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান সোমবার এক আদেশে শিবালয় থানার ওসি মো. শাহীনকে মানিকগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে মাদারীপুর জেলায় সংযুক্তি করেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান জানান, পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার দায় পুলিশ বাহিনীর নয়। পুলিশের যে সদস্য অপরাধ করেছেন তার দায় তাকেই নিতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হাতে এক পিতা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্তি করা হয়েছে। পরে ওসিকেও বদলি করা হয়েছে। তবে বদলিই শুধু নয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিবালয় থানার ওসি মো. শাহীন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় ছিলেন না। এসময় এএসআই আরিফ হোসেন একজনকে থানার ভেতরে মারধর করেন। এই ঘটনায় আমাকে সোমবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ থেকে মাদারীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। সোমবার রাতে ওসি (তদন্ত) শেখ ফরিদ আহমেদের কাছে তার দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা স্ত্রীসহ ঢাকায় বসবাস করেন। তার ৫ বছরের শিশু কন্যা থাকেন দাদীর কাছে। গত ২০ জুলাই শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মান্নান খানের চাচাতো ভাই রজ্জব খান তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি হাতে নাতে ধরে ফেলেন শিশুটির দাদী। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন না।

এরপর, গত ১৪ আগস্ট শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর বাবা। কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থানা থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শনিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে মা ও শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান তিনি। এএসআই আরিফ হোসেনের কাছে ঘটনা খুলে বলার পর তাকে থানার ভেতর মারধর করা হয়। রাতে পুলিশ সুপারের কাছে বিচার দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) নূরজাহান লাবনীর নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড হয়। ওই রাতেই অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরের চরাঞ্চলে নেই ঈদের আনন্দ, হয়নি পশু কোরবানি

মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে বাবা নাজেহাল, ওসি প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৭:১৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হাতে এক পিতা নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই-এর পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনকে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান সোমবার এক আদেশে শিবালয় থানার ওসি মো. শাহীনকে মানিকগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে মাদারীপুর জেলায় সংযুক্তি করেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান জানান, পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার দায় পুলিশ বাহিনীর নয়। পুলিশের যে সদস্য অপরাধ করেছেন তার দায় তাকেই নিতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হাতে এক পিতা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্তি করা হয়েছে। পরে ওসিকেও বদলি করা হয়েছে। তবে বদলিই শুধু নয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিবালয় থানার ওসি মো. শাহীন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় ছিলেন না। এসময় এএসআই আরিফ হোসেন একজনকে থানার ভেতরে মারধর করেন। এই ঘটনায় আমাকে সোমবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ থেকে মাদারীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। সোমবার রাতে ওসি (তদন্ত) শেখ ফরিদ আহমেদের কাছে তার দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা স্ত্রীসহ ঢাকায় বসবাস করেন। তার ৫ বছরের শিশু কন্যা থাকেন দাদীর কাছে। গত ২০ জুলাই শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মান্নান খানের চাচাতো ভাই রজ্জব খান তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি হাতে নাতে ধরে ফেলেন শিশুটির দাদী। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন না।

এরপর, গত ১৪ আগস্ট শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর বাবা। কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থানা থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শনিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে মা ও শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান তিনি। এএসআই আরিফ হোসেনের কাছে ঘটনা খুলে বলার পর তাকে থানার ভেতর মারধর করা হয়। রাতে পুলিশ সুপারের কাছে বিচার দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) নূরজাহান লাবনীর নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড হয়। ওই রাতেই অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।