ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে আরও ৪ শিশুর প্রাণ গেল, হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৮০০ ছুঁই ছুঁই

দুই মাসে বন্ধ হলো আড়াই লাখ বিও হিসাব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে আস্থার সংকটে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও দুই মাসে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন প্রায় আড়াই লাখ বিনিয়োগকারী।

সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন পুঁজিবাজারে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ছিল ২০ লাখ ৭৮ হাজার ১১৭টি। চলতি মাসের ১৬ আগস্ট বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি। সেই হিসাবে গত দুই মাসে পুঁজিবাজার ছেড়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ১১৭টি বিও।

বাজার সূত্রে ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অব্যাহত দরপতনে বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়ে অনেকে বাজার থেকে বের হয়ে গেছেন। কেউ কেউ আরও পুঁজি হারানোর ভয়ে সব শেয়ার বিক্রি করে ফেলেছেন। আবার নবায়ন না করার কারণেও অনেক বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাসের শুরুতে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। নবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্ট বিও হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে যেসব বিও হিসাবে শেয়ার থাকে, সেগুলো বন্ধ করা হয় না। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে দরপতন চলতে থাকায় বাজারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিও হিসাব কমার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ  বলেন, ‘টানা দরপতনে অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে আরও লোকসানের হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকে বাজার থেকে বের হয়ে গেছেন। এতে করে পুঁজিবাজারে বিনিযোগকারীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।’

প্রতিবছর জুলাই শেষে বিও হিসাব নবায়ন না করার কারণে কিছু হিসাব বন্ধ হয়ে যায় বুলে উল্লেখ করে আবু আহমেদ বলেন, ‘এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বাজার টানা মন্দা থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণ বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে।’

সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসের মাঝামাঝি মোট বিও হিসাব ছিল ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০টি এবং নারী বিনিয়োগকারীদের ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩০২টি। কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ১৭৫টি। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৭৭ হাজার ৭৮৯টি।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট শেষে পুঁজিবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা নেমে আসে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টিতে। এর মধ্যে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯০২টি, যার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৮টি বিও পুরুষ বিনিয়োগকারীর, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩১টি নারী বিনিযোগকারীদের।

আলোচিত দুই মাসে ১৩ হাজার ৫৮২টি কমে বিদেশি বিনিযোগকারীর বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২০৭টিতে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দুই মাসে বন্ধ হলো আড়াই লাখ বিও হিসাব

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে আস্থার সংকটে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও দুই মাসে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন প্রায় আড়াই লাখ বিনিয়োগকারী।

সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন পুঁজিবাজারে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ছিল ২০ লাখ ৭৮ হাজার ১১৭টি। চলতি মাসের ১৬ আগস্ট বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি। সেই হিসাবে গত দুই মাসে পুঁজিবাজার ছেড়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ১১৭টি বিও।

বাজার সূত্রে ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অব্যাহত দরপতনে বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়ে অনেকে বাজার থেকে বের হয়ে গেছেন। কেউ কেউ আরও পুঁজি হারানোর ভয়ে সব শেয়ার বিক্রি করে ফেলেছেন। আবার নবায়ন না করার কারণেও অনেক বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাসের শুরুতে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। নবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্ট বিও হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে যেসব বিও হিসাবে শেয়ার থাকে, সেগুলো বন্ধ করা হয় না। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে দরপতন চলতে থাকায় বাজারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিও হিসাব কমার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ  বলেন, ‘টানা দরপতনে অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে আরও লোকসানের হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকে বাজার থেকে বের হয়ে গেছেন। এতে করে পুঁজিবাজারে বিনিযোগকারীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।’

প্রতিবছর জুলাই শেষে বিও হিসাব নবায়ন না করার কারণে কিছু হিসাব বন্ধ হয়ে যায় বুলে উল্লেখ করে আবু আহমেদ বলেন, ‘এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বাজার টানা মন্দা থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণ বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে।’

সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসের মাঝামাঝি মোট বিও হিসাব ছিল ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০টি এবং নারী বিনিয়োগকারীদের ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩০২টি। কোম্পানি বিও হিসাব ছিল ১৬ হাজার ১৭৫টি। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৭৭ হাজার ৭৮৯টি।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট শেষে পুঁজিবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা নেমে আসে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টিতে। এর মধ্যে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯০২টি, যার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৮টি বিও পুরুষ বিনিয়োগকারীর, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩১টি নারী বিনিযোগকারীদের।

আলোচিত দুই মাসে ১৩ হাজার ৫৮২টি কমে বিদেশি বিনিযোগকারীর বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২০৭টিতে।