ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

দিনাজপুরে বৃষ্টির আশায় ‘দেবতার’ বিয়ে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্ষাকালের মাঝামাঝিতেও বৃষ্টির দেখা নেই উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। একই সঙ্গে রোদের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন।

তাই বৃষ্টির আশায় বৃষ্টির দেবতা হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রদেবের বিয়ের আয়োজন করেন দিনাজপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সোমবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের নুলাইবাড়ী কর্মকারপাড়ায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত চলে এ বিয়ের কার্যক্রম।

ওই এলাকার বাসিন্দা রতন কুমার কর্মকার এ বিয়ের আয়োজন করেন। তিনি দিঘন এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক।

নুলাইবাড়ী ছাড়াও এদিন সন্ধ্যার দিকে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামেও এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দিনগত ২টার পর একই ইউনিয়নের উত্তর গোপালপুরেও বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এ বিয়েতে বর ইন্দ্রদেব হিসেবে আসনে বসেন প্রাণকৃষ্ণ। আর কনে কলাবতী হিসেবে আসনে বসেন প্রদীপ রায়। আর বিয়েতে বরের বাবা ছিলেন ললিত মোহন রায়। আর কন্যা দান করেন কনে বাবা রতন কুমার কর্মকার।

ইন্দ্রদেবের বিয়ের পুরোহিত ছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। বিয়েতে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়।

বিয়ে দেখতে আসা দেবাশীষ রায় বলেন, ছোট বেলায় বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে দেখছি। কিন্তু ইন্দ্রদেবের বিয়ে আজকে প্রথম দেখলাম। এতদিন বড়দের কাছে শুনতাম। সোমবার এ বিয়েটা নিজেই দেখলাম।

এ বিয়ের আয়োজক রতন কুমার কর্মকার আকাশ নিউজকে বলেন, বর্তমানে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও তীব্র রৌদের ফলে জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠিকমতো কৃষকরা ধান লাগাতে পারছে, কোনোভাবেই ক্ষেতে কাজ করতে পারছে না। তাই আমরা বৃষ্টির জন্য বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রদেব ও কলাবতীর এ বিয়ের আয়োজন করেছি।

বিয়ের বিষয়ে পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে এ রীতি চলে আসছে। এ বিয়ে হলো ইন্দ্র রাজার বিয়ে। যখন কোথাও অনাবৃষ্টি দেখা দেয় তখন সেই এলাকায় ইন্দ্র রাজার বিয়ের আয়োজন করা হয়। আমরা সেই পূর্ব পুরুষদের রীতি ধরে রাখছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

দিনাজপুরে বৃষ্টির আশায় ‘দেবতার’ বিয়ে

আপডেট সময় ১২:১৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্ষাকালের মাঝামাঝিতেও বৃষ্টির দেখা নেই উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। একই সঙ্গে রোদের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন।

তাই বৃষ্টির আশায় বৃষ্টির দেবতা হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রদেবের বিয়ের আয়োজন করেন দিনাজপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সোমবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের নুলাইবাড়ী কর্মকারপাড়ায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত চলে এ বিয়ের কার্যক্রম।

ওই এলাকার বাসিন্দা রতন কুমার কর্মকার এ বিয়ের আয়োজন করেন। তিনি দিঘন এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক।

নুলাইবাড়ী ছাড়াও এদিন সন্ধ্যার দিকে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামেও এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দিনগত ২টার পর একই ইউনিয়নের উত্তর গোপালপুরেও বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এ বিয়েতে বর ইন্দ্রদেব হিসেবে আসনে বসেন প্রাণকৃষ্ণ। আর কনে কলাবতী হিসেবে আসনে বসেন প্রদীপ রায়। আর বিয়েতে বরের বাবা ছিলেন ললিত মোহন রায়। আর কন্যা দান করেন কনে বাবা রতন কুমার কর্মকার।

ইন্দ্রদেবের বিয়ের পুরোহিত ছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। বিয়েতে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়।

বিয়ে দেখতে আসা দেবাশীষ রায় বলেন, ছোট বেলায় বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে দেখছি। কিন্তু ইন্দ্রদেবের বিয়ে আজকে প্রথম দেখলাম। এতদিন বড়দের কাছে শুনতাম। সোমবার এ বিয়েটা নিজেই দেখলাম।

এ বিয়ের আয়োজক রতন কুমার কর্মকার আকাশ নিউজকে বলেন, বর্তমানে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও তীব্র রৌদের ফলে জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠিকমতো কৃষকরা ধান লাগাতে পারছে, কোনোভাবেই ক্ষেতে কাজ করতে পারছে না। তাই আমরা বৃষ্টির জন্য বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রদেব ও কলাবতীর এ বিয়ের আয়োজন করেছি।

বিয়ের বিষয়ে পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে এ রীতি চলে আসছে। এ বিয়ে হলো ইন্দ্র রাজার বিয়ে। যখন কোথাও অনাবৃষ্টি দেখা দেয় তখন সেই এলাকায় ইন্দ্র রাজার বিয়ের আয়োজন করা হয়। আমরা সেই পূর্ব পুরুষদের রীতি ধরে রাখছি।