ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন ঢাবির আট শিক্ষার্থী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাগরপথ আগামী ২০ ডিসেম্বর পাড়ি দেবেন তারা।

‘ষড়জ এডভেঞ্চারের’ আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহায়তায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৮০ জন সাঁতারু নিয়ে ১৬তম ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার- ২০২১ এ অংশ নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতারু টিম।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সাঁতারু টিমের সদস্যরা।

১৬ দশমিক এক কিলোমিটারের দুঃসাহসিক এই সাঁতার ২০০৬ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সাল থেকে এটাতে অংশগ্রহণ করছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করতে এবারের এই আয়োজন।

আট সদস্যের সাঁতারু টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতারু ও ডাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তার নেতৃত্বে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা করবে। বাকি সাঁতারুরা হলেন– ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসাইন সুজন, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুল ইসলাম তপু, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আলী রওনক ইসলাম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক। তারা সবাই বাংলা চ্যানেল একবার করে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশগ্রহণ করছেন তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন।

এই প্রতিযোগিতার জন্য গত ২৬ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর দুটি বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিচারপতি শাহবুদ্দিন পার্কের পুকুরে। বাছাইপর্বে একজন সাঁতারুকে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে টানা চার ঘণ্টা সাঁতার কেটে দেখাতে হয়। এই আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭২ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটজন সাঁতারু গত ৫-৬ মাস কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের প্রস্তুত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতারু টিমের অধিনায়ক সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, সমুদ্রের পথটা একটু কঠিন। সেখানে সমুদ্রের স্রোত, ঢেউ, লবণাক্ত পানি, দিক চেনার বিষয় থাকে সব মিলিয়ে এই পথ পাড়ি দেওয়া চ্যালেঞ্জিং। গত বছর আমরা এই আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হই, আশা করছি এবারো আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। এই দুঃসাহসিক কাজের মাধ্যমে মানুষকে সাঁতারে প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সাঁতার না জানার কারণে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব হবে।

টিমের আরেক সদস্য সাইফুল ইসলাম তপু বলেন, বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জটি শুধু সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সাঁতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলা চ্যানেল সাঁতারের সার্কুলার হওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা ত্যাগ করা, তীব্র শীতের ভেতর পুকুর পাড়ে যাওয়া, একটু ব্যায়াম করে পুকুরের পানি সাঁতারের জন্য নামা প্রতিটি স্তরই চ্যালেঞ্জিং৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন ঢাবির আট শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৫:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাগরপথ আগামী ২০ ডিসেম্বর পাড়ি দেবেন তারা।

‘ষড়জ এডভেঞ্চারের’ আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহায়তায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৮০ জন সাঁতারু নিয়ে ১৬তম ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার- ২০২১ এ অংশ নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতারু টিম।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সাঁতারু টিমের সদস্যরা।

১৬ দশমিক এক কিলোমিটারের দুঃসাহসিক এই সাঁতার ২০০৬ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সাল থেকে এটাতে অংশগ্রহণ করছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করতে এবারের এই আয়োজন।

আট সদস্যের সাঁতারু টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতারু ও ডাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তার নেতৃত্বে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা করবে। বাকি সাঁতারুরা হলেন– ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসাইন সুজন, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুল ইসলাম তপু, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আলী রওনক ইসলাম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক। তারা সবাই বাংলা চ্যানেল একবার করে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশগ্রহণ করছেন তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন।

এই প্রতিযোগিতার জন্য গত ২৬ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর দুটি বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিচারপতি শাহবুদ্দিন পার্কের পুকুরে। বাছাইপর্বে একজন সাঁতারুকে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে টানা চার ঘণ্টা সাঁতার কেটে দেখাতে হয়। এই আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭২ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটজন সাঁতারু গত ৫-৬ মাস কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের প্রস্তুত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতারু টিমের অধিনায়ক সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, সমুদ্রের পথটা একটু কঠিন। সেখানে সমুদ্রের স্রোত, ঢেউ, লবণাক্ত পানি, দিক চেনার বিষয় থাকে সব মিলিয়ে এই পথ পাড়ি দেওয়া চ্যালেঞ্জিং। গত বছর আমরা এই আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হই, আশা করছি এবারো আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। এই দুঃসাহসিক কাজের মাধ্যমে মানুষকে সাঁতারে প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সাঁতার না জানার কারণে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব হবে।

টিমের আরেক সদস্য সাইফুল ইসলাম তপু বলেন, বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জটি শুধু সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সাঁতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলা চ্যানেল সাঁতারের সার্কুলার হওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা ত্যাগ করা, তীব্র শীতের ভেতর পুকুর পাড়ে যাওয়া, একটু ব্যায়াম করে পুকুরের পানি সাঁতারের জন্য নামা প্রতিটি স্তরই চ্যালেঞ্জিং৷