ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে কলহ, বিষপানে দম্পতির আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে কলহে পাবনার সাঁথিয়ায় স্বামী-স্ত্রী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে। নিহত দম্পত্তি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মানপুর গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মারিয়া খাতুন ও একই উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের রমজান আলী ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মারিয়া ও তার স্বামীর মধ্যে কলহ হয়। পরে মারিয়া কীটনাশক পান করে। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে দুদিন পর বাড়ি নিয়ে যায়। হঠাৎ করে শনিবার সকালে মারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই বিকেলে মারা যায় মারিয়া। এরপর মরদেহের সুরতহাল শেষে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর দাফন-কাফন শেষ করে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রাকিব। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ভোরে মারা যায় রাকিব। রোববার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানায়, রাকিব ও মারিয়া মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পারিবারিকভাবে তাদের বছর খানেক আগে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। মাঝেমধ্যে সালিশও হতো গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে। এরপরও দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

মারিয়ার বাবা মানিক হোসেন বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। মেয়েকে মাঝেমধ্যে নির্যাতন করত জামাই। মনোমালিন্য করে আমার বাড়িতে চলে আসত মেয়ে। পরে আবার বুঝিয়ে জামাই বাড়িতে রেখে আসতাম। দুজনই যেহেতু মারা গেছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের কোনো দাবি নেই। তবে বাবা হিসেবে আমি এখন নিঃস্ব।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটার আলোকে রোববার বিকেলে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মেয়ের চাচা আনিছুর রহমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে কলহ, বিষপানে দম্পতির আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে কলহে পাবনার সাঁথিয়ায় স্বামী-স্ত্রী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে। নিহত দম্পত্তি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মানপুর গ্রামের মানিক হোসেনের মেয়ে মারিয়া খাতুন ও একই উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের রমজান আলী ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মারিয়া ও তার স্বামীর মধ্যে কলহ হয়। পরে মারিয়া কীটনাশক পান করে। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে দুদিন পর বাড়ি নিয়ে যায়। হঠাৎ করে শনিবার সকালে মারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই বিকেলে মারা যায় মারিয়া। এরপর মরদেহের সুরতহাল শেষে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর দাফন-কাফন শেষ করে সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রাকিব। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ভোরে মারা যায় রাকিব। রোববার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানায়, রাকিব ও মারিয়া মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পারিবারিকভাবে তাদের বছর খানেক আগে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। মাঝেমধ্যে সালিশও হতো গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে। এরপরও দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

মারিয়ার বাবা মানিক হোসেন বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। মেয়েকে মাঝেমধ্যে নির্যাতন করত জামাই। মনোমালিন্য করে আমার বাড়িতে চলে আসত মেয়ে। পরে আবার বুঝিয়ে জামাই বাড়িতে রেখে আসতাম। দুজনই যেহেতু মারা গেছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের কোনো দাবি নেই। তবে বাবা হিসেবে আমি এখন নিঃস্ব।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটার আলোকে রোববার বিকেলে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মেয়ের চাচা আনিছুর রহমান।