ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

লোক দেখানো ইবাদত আমল নষ্ট করে

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলামের দৃষ্টিতে রিয়া শব্দটির অর্থ দেখানো, দৃশ্যমান করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে কেউ যদি মানুষকে দেখানোর জন্য বা সমাজে বাহবা পাওয়ার জন্য কোনো আমল বা অভিনয় করে কিংবা সমাজে লোকে তাকে ধার্মিক বলবে এবং সম্মান করবে, দান করার জন্য দানশীল বলবে, এ উদ্দেশ্যে নিজেকে মানুষের সামনে আল্লাহভীরু পরহেজগার হিসেবে উপস্থাপিত করার জন্য আমল করে ইসলামের পরিভাষায় তাকে রিয়া বা লোক দেখানো আমল বলে। রিয়া হলো লোক দেখানো ইবাদত। অথচ আমাদের ইবাদত হবে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভের আশা রাখে সে যেন নেক কাজ করে এবং তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।’ আল্লাহ আরও বলেন, ‘ওইসব নামাজি লোকের জন্য ওয়ায়েল দোজখ, যারা অন্যমনস্কভাবে নামাজ পড়ে এবং অন্যকে দেখায়।’

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে হাজির হওয়া পরহেজগার এক বান্দাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী প্রকার ইবাদত করেছ? সেই পরহেজগার ব্যক্তি বলবে আমি আপনার রাস্তায় আপনার দীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য আমার জীবনকে কোরবান করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি নিজেকে বীর যোদ্ধা হিসেবে সমাজে সম্মান ও সুনামের জন্য যুদ্ধ করেছ।

হে ফেরেশতারা, তোমরা একে দোজখে নিক্ষেপ কর। এভাবে আরেকজন পরহেজগার ব্যক্তির কাছে আল্লাহ জানতে চাইবেন, তুমি কী প্রকার ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমি আমার যাবতীয় ধনসম্পদ যা কিছু ছিল তা আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করেছি।

তখন আল্লাহ বলবেন, তুমিও মিথ্যা বলছ, তুমি এ উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করেছ যাতে লোকে তোমাকে দাতা বলে, দানবীর হিসেবে সমাজে সবাই তোমার প্রশংসা করে। তুমি তা পেয়েছ। সুতরাং আজ তুমিও দোজখে গমন কর। এরপর আরেক পরহেজগার ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। তাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কী এমন আমল করেছ? সে ব্যক্তি বলবে আমি এমনভাবে পরিশ্রম করে কোরআন শিখেছি, যাতে মানুষকে তা শিক্ষা দিয়ে নেক অর্জন করতে পারি।

আল্লাহ বলবেন, না, তুমি এজন্য তা শিক্ষা গ্রহণ করনি। তুমি নিজেকে সমাজে বড় আলেম হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য কোরআন শিখেছ। তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা তাকেও দোজখে নিক্ষেপ করবে।’

আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লোক দেখানো ইবাদত পরিহার করা জরুরি। কিয়ামতের ময়দানের কঠিন সময়ে মানুষকে তাদের আমল তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময় দেওয়া হবে।

তখন আল্লাহতায়ালা রিয়াকারীদের বলবেন, ‘তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের তোমরা দুনিয়ায় ইবাদত-বন্দেগি করে দেখাতে। দেখ তাদের কাছ থেকে ইবাদতের কোনো প্রতিদান পাও কি না।’ মুসনাদে আহমদ।

প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে লোক দেখানো ইবাদত থেকে মুক্ত হতে হবে। পরকালে আল্লাহর কাছে সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য যথাযথভাবে আহকাম আরকান অনুযায়ী নেক আমল করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

লোক দেখানো ইবাদত আমল নষ্ট করে

আপডেট সময় ০৭:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ নভেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলামের দৃষ্টিতে রিয়া শব্দটির অর্থ দেখানো, দৃশ্যমান করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে কেউ যদি মানুষকে দেখানোর জন্য বা সমাজে বাহবা পাওয়ার জন্য কোনো আমল বা অভিনয় করে কিংবা সমাজে লোকে তাকে ধার্মিক বলবে এবং সম্মান করবে, দান করার জন্য দানশীল বলবে, এ উদ্দেশ্যে নিজেকে মানুষের সামনে আল্লাহভীরু পরহেজগার হিসেবে উপস্থাপিত করার জন্য আমল করে ইসলামের পরিভাষায় তাকে রিয়া বা লোক দেখানো আমল বলে। রিয়া হলো লোক দেখানো ইবাদত। অথচ আমাদের ইবাদত হবে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভের আশা রাখে সে যেন নেক কাজ করে এবং তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।’ আল্লাহ আরও বলেন, ‘ওইসব নামাজি লোকের জন্য ওয়ায়েল দোজখ, যারা অন্যমনস্কভাবে নামাজ পড়ে এবং অন্যকে দেখায়।’

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে হাজির হওয়া পরহেজগার এক বান্দাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী প্রকার ইবাদত করেছ? সেই পরহেজগার ব্যক্তি বলবে আমি আপনার রাস্তায় আপনার দীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য আমার জীবনকে কোরবান করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি নিজেকে বীর যোদ্ধা হিসেবে সমাজে সম্মান ও সুনামের জন্য যুদ্ধ করেছ।

হে ফেরেশতারা, তোমরা একে দোজখে নিক্ষেপ কর। এভাবে আরেকজন পরহেজগার ব্যক্তির কাছে আল্লাহ জানতে চাইবেন, তুমি কী প্রকার ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমি আমার যাবতীয় ধনসম্পদ যা কিছু ছিল তা আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করেছি।

তখন আল্লাহ বলবেন, তুমিও মিথ্যা বলছ, তুমি এ উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করেছ যাতে লোকে তোমাকে দাতা বলে, দানবীর হিসেবে সমাজে সবাই তোমার প্রশংসা করে। তুমি তা পেয়েছ। সুতরাং আজ তুমিও দোজখে গমন কর। এরপর আরেক পরহেজগার ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। তাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কী এমন আমল করেছ? সে ব্যক্তি বলবে আমি এমনভাবে পরিশ্রম করে কোরআন শিখেছি, যাতে মানুষকে তা শিক্ষা দিয়ে নেক অর্জন করতে পারি।

আল্লাহ বলবেন, না, তুমি এজন্য তা শিক্ষা গ্রহণ করনি। তুমি নিজেকে সমাজে বড় আলেম হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য কোরআন শিখেছ। তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা তাকেও দোজখে নিক্ষেপ করবে।’

আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লোক দেখানো ইবাদত পরিহার করা জরুরি। কিয়ামতের ময়দানের কঠিন সময়ে মানুষকে তাদের আমল তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময় দেওয়া হবে।

তখন আল্লাহতায়ালা রিয়াকারীদের বলবেন, ‘তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের তোমরা দুনিয়ায় ইবাদত-বন্দেগি করে দেখাতে। দেখ তাদের কাছ থেকে ইবাদতের কোনো প্রতিদান পাও কি না।’ মুসনাদে আহমদ।

প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে লোক দেখানো ইবাদত থেকে মুক্ত হতে হবে। পরকালে আল্লাহর কাছে সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য যথাযথভাবে আহকাম আরকান অনুযায়ী নেক আমল করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার।