ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

নেশার টাকা না পেয়ে ৩ ছেলেকে বিষ দিলেন বাবা, ১ ছেলের মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার টাকা না পেয়ে নিজের তিন শিশুপুত্রকে বিষপান করিয়েছেন আলম শেখ নামে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তি। এতে তার ছোট ছেলে হোসেন শেখের (৩) মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে।

চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে রোববার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন মারা যায়।

শিশুদের মা সীমা বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী আলম শেখ মাদকাসক্ত। এর আগে বৃহস্প‌তিবার সকালে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন আলম। এরপর তিন ছেলেকে জোর করে বিষ পান করান তিনি। এর চারদিন পর হোসেনের মৃত্যু হয়। বাকি দুই ছেলে সিয়াম শেখ (১০) ও হাসান শেখ (৪) ওই হাসপাতা‌লে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের অবস্থাও সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, আমি আলম শেখের ফাঁসি চাই। যাতে অন্য কোনো বাবা তার সন্তানদের সঙ্গে এমন কাজ করতে সাহস না পায়। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ তিন ভাই।

মুকসুদপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিষ দেওয়ার পর প্রথমে শিশু তিনটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাদের অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার ওই তিন শিশুকে মা সীমা বেগম বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু শনিবার তাদের অবস্থা আবার খারাপ হলে স্থানীয়দের আর্থিক সহায়তায় তাদের ফরিদপুর মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে হোসেন মারা যায়।

তিনি আরো জানান, ওইদিনই (বৃহস্পতিবার) ওই শিশুদের বাবা আলম শেখকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছে। একটি শিশু মারা যাওয়ায় ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নেশার টাকা না পেয়ে ৩ ছেলেকে বিষ দিলেন বাবা, ১ ছেলের মৃত্যু

আপডেট সময় ০১:২২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার টাকা না পেয়ে নিজের তিন শিশুপুত্রকে বিষপান করিয়েছেন আলম শেখ নামে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তি। এতে তার ছোট ছেলে হোসেন শেখের (৩) মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে।

চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে রোববার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন মারা যায়।

শিশুদের মা সীমা বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী আলম শেখ মাদকাসক্ত। এর আগে বৃহস্প‌তিবার সকালে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন আলম। এরপর তিন ছেলেকে জোর করে বিষ পান করান তিনি। এর চারদিন পর হোসেনের মৃত্যু হয়। বাকি দুই ছেলে সিয়াম শেখ (১০) ও হাসান শেখ (৪) ওই হাসপাতা‌লে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের অবস্থাও সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, আমি আলম শেখের ফাঁসি চাই। যাতে অন্য কোনো বাবা তার সন্তানদের সঙ্গে এমন কাজ করতে সাহস না পায়। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ তিন ভাই।

মুকসুদপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিষ দেওয়ার পর প্রথমে শিশু তিনটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাদের অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার ওই তিন শিশুকে মা সীমা বেগম বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু শনিবার তাদের অবস্থা আবার খারাপ হলে স্থানীয়দের আর্থিক সহায়তায় তাদের ফরিদপুর মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে হোসেন মারা যায়।

তিনি আরো জানান, ওইদিনই (বৃহস্পতিবার) ওই শিশুদের বাবা আলম শেখকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছে। একটি শিশু মারা যাওয়ায় ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।