ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মেয়র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এলাকায় সেনাবাহিনীর মহড়া চলছিল। সকালে একজন লোক এসে বলে আমাকে বাঁচান। লোকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিলো না। কথা বলতে পারছিলো না। তখন সেখানে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। ওই অফিসার আমি লোকটিকে চিনি কিনা জানতে চাইলো। আমি না বলার পর মহড়ায় যাবার জন্য গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। আমি ওই লোকটিকে জিজ্ঞেস করি আপনি কে? তিনি নিজেকে মেয়র বলে পরিচয় দেন। কোন জায়গার মেয়র জানতে চাইলে তিনি আবারও নিজের নাম বলেন।

এ ধরনের কথা শুনে সেনাবাহিনীর ওই অফিসার আবার গাড়ী থেকে নেমে পত্রিকার সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নেন। তারপর ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসাই।’ নিখোঁজ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকনুজ্জামানকে এভাবে খুঁজে পাওয়ার কথা জানালেন শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ অশোক কানু ও দফাদার গৌড়া লাল ভৌমিক। তারা আরও জানান, ওই সময় মেয়র রুকন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।

তিনি শুধু বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে কালো মাইক্রোবাসে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ বুধবার সকালে ইউনিয়নের খেলার মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত তিনি সরিষাবাড়ীর পৌরসভার মেয়র। কালীঘাট ইউনিয়নে একটি খোলা মাঠে তাকে চোখ বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। উনি ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। শুধু নাম বলতে পারছে, জামালপুরও বলতে পারছেনা। খালি শুধু বলে আমার বাড়ী জামাল।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল বলেন, ‘কালীঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে দুপুর একটার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস মেয়র রুকনকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ইউনিয়নের লোকজন তাকে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেকশনের পার্কে প্রাত:ভ্রমণে গিয়ে পৌর মেয়র রুকন নিখোঁজ হন। তিনি উত্তরা ১৩ নম্বর সেকশনের ১৪ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার পর ওইদিন রাতে নিখোঁজের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মেয়র

আপডেট সময় ০৮:৫২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এলাকায় সেনাবাহিনীর মহড়া চলছিল। সকালে একজন লোক এসে বলে আমাকে বাঁচান। লোকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিলো না। কথা বলতে পারছিলো না। তখন সেখানে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। ওই অফিসার আমি লোকটিকে চিনি কিনা জানতে চাইলো। আমি না বলার পর মহড়ায় যাবার জন্য গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। আমি ওই লোকটিকে জিজ্ঞেস করি আপনি কে? তিনি নিজেকে মেয়র বলে পরিচয় দেন। কোন জায়গার মেয়র জানতে চাইলে তিনি আবারও নিজের নাম বলেন।

এ ধরনের কথা শুনে সেনাবাহিনীর ওই অফিসার আবার গাড়ী থেকে নেমে পত্রিকার সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নেন। তারপর ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসাই।’ নিখোঁজ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকনুজ্জামানকে এভাবে খুঁজে পাওয়ার কথা জানালেন শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ অশোক কানু ও দফাদার গৌড়া লাল ভৌমিক। তারা আরও জানান, ওই সময় মেয়র রুকন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।

তিনি শুধু বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে কালো মাইক্রোবাসে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ বুধবার সকালে ইউনিয়নের খেলার মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত তিনি সরিষাবাড়ীর পৌরসভার মেয়র। কালীঘাট ইউনিয়নে একটি খোলা মাঠে তাকে চোখ বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। উনি ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। শুধু নাম বলতে পারছে, জামালপুরও বলতে পারছেনা। খালি শুধু বলে আমার বাড়ী জামাল।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল বলেন, ‘কালীঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে দুপুর একটার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস মেয়র রুকনকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ইউনিয়নের লোকজন তাকে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেকশনের পার্কে প্রাত:ভ্রমণে গিয়ে পৌর মেয়র রুকন নিখোঁজ হন। তিনি উত্তরা ১৩ নম্বর সেকশনের ১৪ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার পর ওইদিন রাতে নিখোঁজের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।