ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা আগুন, দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে: স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের তেলকে ‘বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মধুর’ বললেন ট্রাম্প আমরা ক্লিনিং ঢাকা করতে চাই, সমৃদ্ধ ন্যাশন গড়তে চাই: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে : র‍্যাব ইরানের দাবি- জব্দ অর্থ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকার ওয়াশিংটনের হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য সচিব বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই ফারজানা সিঁথি ‘বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে সরকার যা সর্বনাশ ডেকে আনবে’:বিচারপতি মতিন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগণের কথা ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মেয়র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এলাকায় সেনাবাহিনীর মহড়া চলছিল। সকালে একজন লোক এসে বলে আমাকে বাঁচান। লোকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিলো না। কথা বলতে পারছিলো না। তখন সেখানে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। ওই অফিসার আমি লোকটিকে চিনি কিনা জানতে চাইলো। আমি না বলার পর মহড়ায় যাবার জন্য গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। আমি ওই লোকটিকে জিজ্ঞেস করি আপনি কে? তিনি নিজেকে মেয়র বলে পরিচয় দেন। কোন জায়গার মেয়র জানতে চাইলে তিনি আবারও নিজের নাম বলেন।

এ ধরনের কথা শুনে সেনাবাহিনীর ওই অফিসার আবার গাড়ী থেকে নেমে পত্রিকার সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নেন। তারপর ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসাই।’ নিখোঁজ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকনুজ্জামানকে এভাবে খুঁজে পাওয়ার কথা জানালেন শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ অশোক কানু ও দফাদার গৌড়া লাল ভৌমিক। তারা আরও জানান, ওই সময় মেয়র রুকন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।

তিনি শুধু বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে কালো মাইক্রোবাসে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ বুধবার সকালে ইউনিয়নের খেলার মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত তিনি সরিষাবাড়ীর পৌরসভার মেয়র। কালীঘাট ইউনিয়নে একটি খোলা মাঠে তাকে চোখ বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। উনি ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। শুধু নাম বলতে পারছে, জামালপুরও বলতে পারছেনা। খালি শুধু বলে আমার বাড়ী জামাল।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল বলেন, ‘কালীঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে দুপুর একটার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস মেয়র রুকনকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ইউনিয়নের লোকজন তাকে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেকশনের পার্কে প্রাত:ভ্রমণে গিয়ে পৌর মেয়র রুকন নিখোঁজ হন। তিনি উত্তরা ১৩ নম্বর সেকশনের ১৪ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার পর ওইদিন রাতে নিখোঁজের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বুমরাহ যে দলেই খেলুক, সে সেরা বোলার : যুবরাজ

যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মেয়র

আপডেট সময় ০৮:৫২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এলাকায় সেনাবাহিনীর মহড়া চলছিল। সকালে একজন লোক এসে বলে আমাকে বাঁচান। লোকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিলো না। কথা বলতে পারছিলো না। তখন সেখানে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। ওই অফিসার আমি লোকটিকে চিনি কিনা জানতে চাইলো। আমি না বলার পর মহড়ায় যাবার জন্য গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। আমি ওই লোকটিকে জিজ্ঞেস করি আপনি কে? তিনি নিজেকে মেয়র বলে পরিচয় দেন। কোন জায়গার মেয়র জানতে চাইলে তিনি আবারও নিজের নাম বলেন।

এ ধরনের কথা শুনে সেনাবাহিনীর ওই অফিসার আবার গাড়ী থেকে নেমে পত্রিকার সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নেন। তারপর ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসাই।’ নিখোঁজ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকনুজ্জামানকে এভাবে খুঁজে পাওয়ার কথা জানালেন শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ অশোক কানু ও দফাদার গৌড়া লাল ভৌমিক। তারা আরও জানান, ওই সময় মেয়র রুকন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।

তিনি শুধু বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে কালো মাইক্রোবাসে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ বুধবার সকালে ইউনিয়নের খেলার মাঠ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত তিনি সরিষাবাড়ীর পৌরসভার মেয়র। কালীঘাট ইউনিয়নে একটি খোলা মাঠে তাকে চোখ বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। উনি ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। শুধু নাম বলতে পারছে, জামালপুরও বলতে পারছেনা। খালি শুধু বলে আমার বাড়ী জামাল।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল বলেন, ‘কালীঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে দুপুর একটার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস মেয়র রুকনকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ইউনিয়নের লোকজন তাকে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেকশনের পার্কে প্রাত:ভ্রমণে গিয়ে পৌর মেয়র রুকন নিখোঁজ হন। তিনি উত্তরা ১৩ নম্বর সেকশনের ১৪ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনার পর ওইদিন রাতে নিখোঁজের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।