আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দোকানের পাশে প্রস্রাব করায় সুধন চন্দ্র দাস নামে এক পাষণ্ড গরম পানি ঢেলে প্রতিবেশী শিশু শ্রমিক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত ইসলাম আলিফের (৯) বুক ঝলসে দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
শিশুটিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিফাত ইসলাম আলিফ সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়ার মৃত ফজর ফকিরের ছেলে। আরিফ স্থানীয় মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। স্কুল বন্ধ ও সংসারে অভাবের কারণে বাড়ির কাছে রঞ্জিত দাসের চা স্টলে কাজ করে।
পাশের চা দোকানি সুধন চন্দ্র একই এলাকার মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে। চা-বিস্কুট বিক্রি নিয়ে দুই দোকানির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সুধন চন্দ্র পাশের দোকানের কর্মচারী শিশু আলিফকে পছন্দ করত না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শিশু আলিফ তার (সুধন) দোকানের পাশে প্রস্রাব করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুধন চায়ের কেতলির গরম পানি শিশুটির বুকে ঢেলে দেন। এতে তার বুক ঝলসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। ঘটনার পরপরই সুধন আত্মগোপন করেন।
শিশু আলিফের মহাজন রঞ্জিত দাস জানান, তিনি বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির দেখভাল করছেন।
মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জাবেদ আকতার জিপু জানান, আলিফ তার স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাড়িতে অভাব থাকায় সে নিয়মিত স্কুলে আসতো না; বাজারে রঞ্জিতের চা দোকানে কাজ করে দরিদ্র বিধবা মাকে সহযোগিতা করে। তিনি নিরপরাধ আলিফের ওপর নির্যাতনকারী সুধনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, তিনি এ ঘটনা শোনার পর ফোর্স পাঠিয়েছিলেন। সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























