ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

শিশুর বুকে ঢেলে দিল গরম পানি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দোকানের পাশে প্রস্রাব করায় সুধন চন্দ্র দাস নামে এক পাষণ্ড গরম পানি ঢেলে প্রতিবেশী শিশু শ্রমিক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত ইসলাম আলিফের (৯) বুক ঝলসে দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রিফাত ইসলাম আলিফ সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়ার মৃত ফজর ফকিরের ছেলে। আরিফ স্থানীয় মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। স্কুল বন্ধ ও সংসারে অভাবের কারণে বাড়ির কাছে রঞ্জিত দাসের চা স্টলে কাজ করে।

পাশের চা দোকানি সুধন চন্দ্র একই এলাকার মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে। চা-বিস্কুট বিক্রি নিয়ে দুই দোকানির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সুধন চন্দ্র পাশের দোকানের কর্মচারী শিশু আলিফকে পছন্দ করত না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শিশু আলিফ তার (সুধন) দোকানের পাশে প্রস্রাব করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুধন চায়ের কেতলির গরম পানি শিশুটির বুকে ঢেলে দেন। এতে তার বুক ঝলসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। ঘটনার পরপরই সুধন আত্মগোপন করেন।

শিশু আলিফের মহাজন রঞ্জিত দাস জানান, তিনি বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির দেখভাল করছেন।

মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জাবেদ আকতার জিপু জানান, আলিফ তার স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাড়িতে অভাব থাকায় সে নিয়মিত স্কুলে আসতো না; বাজারে রঞ্জিতের চা দোকানে কাজ করে দরিদ্র বিধবা মাকে সহযোগিতা করে। তিনি নিরপরাধ আলিফের ওপর নির্যাতনকারী সুধনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, তিনি এ ঘটনা শোনার পর ফোর্স পাঠিয়েছিলেন। সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

শিশুর বুকে ঢেলে দিল গরম পানি

আপডেট সময় ১০:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দোকানের পাশে প্রস্রাব করায় সুধন চন্দ্র দাস নামে এক পাষণ্ড গরম পানি ঢেলে প্রতিবেশী শিশু শ্রমিক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত ইসলাম আলিফের (৯) বুক ঝলসে দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রিফাত ইসলাম আলিফ সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়ার মৃত ফজর ফকিরের ছেলে। আরিফ স্থানীয় মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। স্কুল বন্ধ ও সংসারে অভাবের কারণে বাড়ির কাছে রঞ্জিত দাসের চা স্টলে কাজ করে।

পাশের চা দোকানি সুধন চন্দ্র একই এলাকার মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে। চা-বিস্কুট বিক্রি নিয়ে দুই দোকানির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সুধন চন্দ্র পাশের দোকানের কর্মচারী শিশু আলিফকে পছন্দ করত না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শিশু আলিফ তার (সুধন) দোকানের পাশে প্রস্রাব করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুধন চায়ের কেতলির গরম পানি শিশুটির বুকে ঢেলে দেন। এতে তার বুক ঝলসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। ঘটনার পরপরই সুধন আত্মগোপন করেন।

শিশু আলিফের মহাজন রঞ্জিত দাস জানান, তিনি বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির দেখভাল করছেন।

মথুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জাবেদ আকতার জিপু জানান, আলিফ তার স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাড়িতে অভাব থাকায় সে নিয়মিত স্কুলে আসতো না; বাজারে রঞ্জিতের চা দোকানে কাজ করে দরিদ্র বিধবা মাকে সহযোগিতা করে। তিনি নিরপরাধ আলিফের ওপর নির্যাতনকারী সুধনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, তিনি এ ঘটনা শোনার পর ফোর্স পাঠিয়েছিলেন। সোমবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।