ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল

লাইফ সাপোর্টে ফকির আলমগীর

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

করোনায় আক্রান্ত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবণতি হয়েছে। তাকে এখন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আজ রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ আগে তাঁর বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪৫–এ নেমে আসে। যার কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেশন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ভেন্টিলেশনে নেওয়ার পর থেকে ফকির আলমগীরের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০–এ উন্নীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে ভর্তির পরপরই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।

ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীত শিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন।
‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

লাইফ সাপোর্টে ফকির আলমগীর

আপডেট সময় ১১:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

করোনায় আক্রান্ত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবণতি হয়েছে। তাকে এখন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আজ রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ আগে তাঁর বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪৫–এ নেমে আসে। যার কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেশন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ভেন্টিলেশনে নেওয়ার পর থেকে ফকির আলমগীরের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০–এ উন্নীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে ভর্তির পরপরই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।

ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৮২ সালের বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীত শিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন।
‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।