ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ৪ হাজার!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাটের নিচে বসানো হয়েছে কম্পিউটার। তাতে যুক্ত করা হয়েছে প্রিন্টার। মাউস চাপ দিলেই বেরিয়ে আসছে হাজার ও পাঁচশ টাকার চকচকে নোট। তবে এসব টাকা আসল নয়, সবই জাল।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল ঢাকার ভাটারায় নুরের চালার একটি বাড়িতে। দীর্ঘ দশ বছর ধরে এমন জাল টাকা তৈরি করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিত আব্দুর রহিম ও ফাতেমা দম্পতি। কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তা পর্যায়ে এসব জাল নোট ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে ছিল ডিলার। পুরো এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ হতো চার হাজার টাকা। এরমধ্যে একহাজার টাকার এক লাখের বান্ডিল ১৫ হাজার টাকা এবং পাঁচশ টাকার একলাখের বান্ডিল ১২ হাজার টাকা বিক্রি করা হতো।

সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম, ৪৩ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম জানান, ২০১০ সালে তিনি এই পেশায় আসেন। তখন জাল টাকা কিনে দোকানে দোকানে ভাঙাতেন। কিন্তু ওই পেশায় তেমন লাভ হতো না। পরে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাসে বরিশালের বাউফলের সোহাগ নামে একজনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ছয় মাস তার কাছ থেকে জাল টাকা তৈরির শিখে নিজে আলাদাভাবে টাকা বানানোর কাজ শুরু করেন। জাল টাকা তৈরির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দুইবার ধরা পড়ে জেলেও খেটেছেন।

কোরবানির হাটে কীভাবে জাল টাকা সরবরাহ করা হতো জানতে চাইলে আব্দুর রহিম বলেন, ‘জাল নোট নিয়ে আমাদের লোকজন ক্রেতা সেজে বাজারে যায়। এরপর গরুর মালিকের সঙ্গে দরদাম করে। পরে সব জাল নোট ওই গরুর মালিককে দেয়া হয়। ওই গরুর মালিক বয়স্ক বা সহজ সরল কি-না তা দেখা হয়। গ্রামের বা সহজ সরল মানুষের কাছে টাকা দিলে তারা এসব না দেখে পকেটে রেখে দেয়। নতুন টাকা ভেবে দেশে চলে যায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যারা এসব জাল টাকা তৈরি করে তারা ঘিঞ্জি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই কাজ করে। আমাদের গোয়েন্দারা বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা চক্রটি ধরেছি। এই চক্রের বিরুদ্ধে আগেও জাল টাকা বানানোর মামলা আছে।

হাফিজ আক্তার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ওই দম্পতির কাছ থেকে জাল নোট কিনতে আসার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ৪ হাজার!

আপডেট সময় ০৬:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাটের নিচে বসানো হয়েছে কম্পিউটার। তাতে যুক্ত করা হয়েছে প্রিন্টার। মাউস চাপ দিলেই বেরিয়ে আসছে হাজার ও পাঁচশ টাকার চকচকে নোট। তবে এসব টাকা আসল নয়, সবই জাল।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল ঢাকার ভাটারায় নুরের চালার একটি বাড়িতে। দীর্ঘ দশ বছর ধরে এমন জাল টাকা তৈরি করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিত আব্দুর রহিম ও ফাতেমা দম্পতি। কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তা পর্যায়ে এসব জাল নোট ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে ছিল ডিলার। পুরো এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ হতো চার হাজার টাকা। এরমধ্যে একহাজার টাকার এক লাখের বান্ডিল ১৫ হাজার টাকা এবং পাঁচশ টাকার একলাখের বান্ডিল ১২ হাজার টাকা বিক্রি করা হতো।

সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম, ৪৩ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম জানান, ২০১০ সালে তিনি এই পেশায় আসেন। তখন জাল টাকা কিনে দোকানে দোকানে ভাঙাতেন। কিন্তু ওই পেশায় তেমন লাভ হতো না। পরে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাসে বরিশালের বাউফলের সোহাগ নামে একজনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ছয় মাস তার কাছ থেকে জাল টাকা তৈরির শিখে নিজে আলাদাভাবে টাকা বানানোর কাজ শুরু করেন। জাল টাকা তৈরির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দুইবার ধরা পড়ে জেলেও খেটেছেন।

কোরবানির হাটে কীভাবে জাল টাকা সরবরাহ করা হতো জানতে চাইলে আব্দুর রহিম বলেন, ‘জাল নোট নিয়ে আমাদের লোকজন ক্রেতা সেজে বাজারে যায়। এরপর গরুর মালিকের সঙ্গে দরদাম করে। পরে সব জাল নোট ওই গরুর মালিককে দেয়া হয়। ওই গরুর মালিক বয়স্ক বা সহজ সরল কি-না তা দেখা হয়। গ্রামের বা সহজ সরল মানুষের কাছে টাকা দিলে তারা এসব না দেখে পকেটে রেখে দেয়। নতুন টাকা ভেবে দেশে চলে যায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যারা এসব জাল টাকা তৈরি করে তারা ঘিঞ্জি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই কাজ করে। আমাদের গোয়েন্দারা বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা চক্রটি ধরেছি। এই চক্রের বিরুদ্ধে আগেও জাল টাকা বানানোর মামলা আছে।

হাফিজ আক্তার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ওই দম্পতির কাছ থেকে জাল নোট কিনতে আসার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।