ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

আগুনে নিহতদের অধিকাংশই শিশু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় বৃহস্পতিবার বিকালে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক বলে জানা যা গেছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টা পরও ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

ওই ভবনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা অংশে চলছে লাশের সন্ধান। একের পর এক ব্যাগ ভর্তি করে লাশ বের করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ইতোমধ্যে ৪৯ জনেরও বেশি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। এরমধ্যে অনেক লাশই শিশুদের। পাশাপাশি নারী ও পুরুষ শ্রমিকের লাশও রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন ঘটনাস্থলে এ তথ্য জানান।

আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আমরা ৪৯ জনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি ময়নাতদন্তের জন্য।

জানা যায়, ছয়তলা ভবনের চতুর্থতলা পর্যন্ত প্রবেশ করা গেছে। সেখান থেকেই পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ জন। এছাড়া আহত হন আরও অন্তত ৫০ জন। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। আগুনে নিহতদের কাউকেই শনাক্ত করার মতো উপায় নেই। আগুনে লাশগুলো এতটাই বিকৃত হয়েছে যে সেগুলো চেনার উপায় নেই। ভেতরে আরও মরদেহ থাকতে পারে, সেজন্য আরও তল্লাশিতে যাবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

শ্রমিকরা জানান, সেজান জুস কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি শিফটে ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। সাত তলা ভবনে থাকা কারখানাটির নিচ তলার একটি ফ্লোরের কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালো ধোঁয়ায় কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুলতার কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুড বেভারেজ কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। শুক্রবার দুপুর নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এখনো ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনের যে অংশগুলোর আগুন নিভে গেছে সেগুলো থেকে পুড়ে যাওয়া মানুষের মরদেহ বের করে আনছে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

আগুনে নিহতদের অধিকাংশই শিশু

আপডেট সময় ০৫:৪২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় বৃহস্পতিবার বিকালে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক বলে জানা যা গেছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টা পরও ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

ওই ভবনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা অংশে চলছে লাশের সন্ধান। একের পর এক ব্যাগ ভর্তি করে লাশ বের করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ইতোমধ্যে ৪৯ জনেরও বেশি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। এরমধ্যে অনেক লাশই শিশুদের। পাশাপাশি নারী ও পুরুষ শ্রমিকের লাশও রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন ঘটনাস্থলে এ তথ্য জানান।

আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আমরা ৪৯ জনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি ময়নাতদন্তের জন্য।

জানা যায়, ছয়তলা ভবনের চতুর্থতলা পর্যন্ত প্রবেশ করা গেছে। সেখান থেকেই পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ জন। এছাড়া আহত হন আরও অন্তত ৫০ জন। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। আগুনে নিহতদের কাউকেই শনাক্ত করার মতো উপায় নেই। আগুনে লাশগুলো এতটাই বিকৃত হয়েছে যে সেগুলো চেনার উপায় নেই। ভেতরে আরও মরদেহ থাকতে পারে, সেজন্য আরও তল্লাশিতে যাবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

শ্রমিকরা জানান, সেজান জুস কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি শিফটে ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। সাত তলা ভবনে থাকা কারখানাটির নিচ তলার একটি ফ্লোরের কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালো ধোঁয়ায় কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুলতার কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুড বেভারেজ কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। শুক্রবার দুপুর নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এখনো ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনের যে অংশগুলোর আগুন নিভে গেছে সেগুলো থেকে পুড়ে যাওয়া মানুষের মরদেহ বের করে আনছে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।