ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণকে দেওয়া হবে: তারেক রহমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না অভিনেত্রী চমক ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, সুনামি সতর্কতা

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর পুঁতে রাখায় ৪ জনের নামে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনার পাথরঘাটায় ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান সামিরা আক্তার জুঁইসহ স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে হত্যার পর খালের পাড়ে পুঁতে রাখায় স্বামী শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শাহিনের মা শাহিনুর বেগম (৪২), মামাতো ভাই ইমাম হোসেন (২২), ইমামের শ্যালক রিমনসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন।

সরেজমিন জানা গেছে, দীর্ঘ দিন আগে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতেমপুর এলাকার রিপন বাদশার মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে শাহিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে তার বাবা শাহিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় শাহিন কারাভোগ করে বিয়ে করার শর্তে মুক্তি পায় এবং বিয়ে করে। এর পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ মীমাংসা হলেও একইভাবে কলহ চলতে থাকে তাদের মধ্যে।

গত বুধবার দুপুরে সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে তার বাবা দাওয়াত করলে সেখানে শাহিন না গেলেও স্ত্রী-সন্তান দাওয়াত খেতে যায় শাহিনকে রেখে। সুইমাইয়া দাওয়াত খেতে যাওয়ায় শাহিন খুনের পরিকল্পনা করে বলে মনে করে প্রতিবেশীরা।

ওই রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে বাড়ির পিছনের খালের পাড়ে গর্ত করে পুঁতে রাখে। পরে সুমাইয়ার পরিবার লোকজন খোঁজাখুঁজির পরে মা-মেয়েকে না পেয়ে বাবা রিপন বাদশা পাথরঘাটা থানায় জানায়। স্থানীয়রা বাড়ির পিছনে গর্ত দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয় পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার জানান, স্ত্রী ও সন্তান হত্যার দায়ে শাহিনের মা শাহিনুর বেগম ও মামাতো ভাই ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর পুঁতে রাখায় ৪ জনের নামে মামলা

আপডেট সময় ০৯:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনার পাথরঘাটায় ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান সামিরা আক্তার জুঁইসহ স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে হত্যার পর খালের পাড়ে পুঁতে রাখায় স্বামী শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শাহিনের মা শাহিনুর বেগম (৪২), মামাতো ভাই ইমাম হোসেন (২২), ইমামের শ্যালক রিমনসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন।

সরেজমিন জানা গেছে, দীর্ঘ দিন আগে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতেমপুর এলাকার রিপন বাদশার মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে শাহিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে তার বাবা শাহিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় শাহিন কারাভোগ করে বিয়ে করার শর্তে মুক্তি পায় এবং বিয়ে করে। এর পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ মীমাংসা হলেও একইভাবে কলহ চলতে থাকে তাদের মধ্যে।

গত বুধবার দুপুরে সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে তার বাবা দাওয়াত করলে সেখানে শাহিন না গেলেও স্ত্রী-সন্তান দাওয়াত খেতে যায় শাহিনকে রেখে। সুইমাইয়া দাওয়াত খেতে যাওয়ায় শাহিন খুনের পরিকল্পনা করে বলে মনে করে প্রতিবেশীরা।

ওই রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে বাড়ির পিছনের খালের পাড়ে গর্ত করে পুঁতে রাখে। পরে সুমাইয়ার পরিবার লোকজন খোঁজাখুঁজির পরে মা-মেয়েকে না পেয়ে বাবা রিপন বাদশা পাথরঘাটা থানায় জানায়। স্থানীয়রা বাড়ির পিছনে গর্ত দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয় পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার জানান, স্ত্রী ও সন্তান হত্যার দায়ে শাহিনের মা শাহিনুর বেগম ও মামাতো ভাই ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।