ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

মালয়েশিয়া থেকে লাশ ফেরত আনতে পরিবারের আকুতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মালয়েশিয়া থেকে সাঈদের লাশ দেশে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চায় তার পরিবার। গত ৮ জুন বাংলাদেশি সময় আনুমানিক সকাল ১০টায় ফাঁসিতে ঝুলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় আত্মহত্যা করেন সাঈদ। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বেলটিয়া বালিয়া গ্রামের শামসুল হকের পুত্র।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাঈদ গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও তার পাসপোর্ট ও ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। অবৈধ থাকার ফলে বার বার দেশে আসতে চেয়েও আসতে পারছিল না। পরবর্তীতে হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মালয়েশিয়ায় ২০১৪ সালে লটারী জিতে মালয়েশিয়ায় যায়। ওখানে সে তাইকো কোম্পানির পাম্পতেলের একটি বাগানে কাজ করতো। ৬ বছর পর ২০১৯ সালে তিন মাসের ছুটিতে বাড়ি এসে সে রূপসী ইউনিয়নের নগরবেড়া গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের মেয়ে হাদিসা খাতুনকে বিয়ে করে।

বিয়ের তিন মাস পর সে আবার চলে যায়। এবার তার মৃত্যুর খবর আসে। বর্তমানে তাদের ঘরে মাসফিয়া আক্তার সাউদা নামের ১০ মাস বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। হাদিসা বলেন, ‘এখন আমার কি হবে? আর আমার বাচ্চারই বা কি উপায় হবে?।’

এদিকে, সাঈদের বাবা শামসুল হক বলেন, ‘অভাবের সংসারের হাল ধরবার ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছিলাম। এখন সে লাশ হয়ে আসছে। ছেলের লাশটা একটু দেখতাম। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার ছেলের লাশটা একটু দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।’

জানা যায়, সাঈদের লাশ দেশে আনতে শামসুলের চাচাত ভাই কবি আশরাফ উদ্দিন মালয়েশিয়ায় যোগাযোগ ও চেষ্টা তদবির করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কবি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সাঈদ ওখানে তার নিজ কক্ষের টয়লেটে ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করেছে বলে আমরা জেনেছি। পরে ওখানের পুলিশসহ তিন স্তরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়না তদন্তে পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দুইদিন আগে তার ময়না তদন্তের রিপোর্টও পাওয়া গেছে। এতে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অন্য কেউ তাকে মারেনি। অসুখ বিসুখসহ নানা হতাশায় ভুগছিল সাঈদ।

তার লাশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে কেড্ডা জেলার লাডাং বাথুলিংতান নামক স্থানে একটি হিমাগারে রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া লাশ দেশে আনা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মত সাঈদকে এক নজর দেখতে চায়।’ এ ব্যাপারে তারা সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া থেকে লাশ ফেরত আনতে পরিবারের আকুতি

আপডেট সময় ১২:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মালয়েশিয়া থেকে সাঈদের লাশ দেশে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চায় তার পরিবার। গত ৮ জুন বাংলাদেশি সময় আনুমানিক সকাল ১০টায় ফাঁসিতে ঝুলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় আত্মহত্যা করেন সাঈদ। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বেলটিয়া বালিয়া গ্রামের শামসুল হকের পুত্র।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাঈদ গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও তার পাসপোর্ট ও ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। অবৈধ থাকার ফলে বার বার দেশে আসতে চেয়েও আসতে পারছিল না। পরবর্তীতে হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মালয়েশিয়ায় ২০১৪ সালে লটারী জিতে মালয়েশিয়ায় যায়। ওখানে সে তাইকো কোম্পানির পাম্পতেলের একটি বাগানে কাজ করতো। ৬ বছর পর ২০১৯ সালে তিন মাসের ছুটিতে বাড়ি এসে সে রূপসী ইউনিয়নের নগরবেড়া গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের মেয়ে হাদিসা খাতুনকে বিয়ে করে।

বিয়ের তিন মাস পর সে আবার চলে যায়। এবার তার মৃত্যুর খবর আসে। বর্তমানে তাদের ঘরে মাসফিয়া আক্তার সাউদা নামের ১০ মাস বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। হাদিসা বলেন, ‘এখন আমার কি হবে? আর আমার বাচ্চারই বা কি উপায় হবে?।’

এদিকে, সাঈদের বাবা শামসুল হক বলেন, ‘অভাবের সংসারের হাল ধরবার ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছিলাম। এখন সে লাশ হয়ে আসছে। ছেলের লাশটা একটু দেখতাম। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার ছেলের লাশটা একটু দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।’

জানা যায়, সাঈদের লাশ দেশে আনতে শামসুলের চাচাত ভাই কবি আশরাফ উদ্দিন মালয়েশিয়ায় যোগাযোগ ও চেষ্টা তদবির করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কবি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সাঈদ ওখানে তার নিজ কক্ষের টয়লেটে ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করেছে বলে আমরা জেনেছি। পরে ওখানের পুলিশসহ তিন স্তরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়না তদন্তে পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দুইদিন আগে তার ময়না তদন্তের রিপোর্টও পাওয়া গেছে। এতে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অন্য কেউ তাকে মারেনি। অসুখ বিসুখসহ নানা হতাশায় ভুগছিল সাঈদ।

তার লাশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে কেড্ডা জেলার লাডাং বাথুলিংতান নামক স্থানে একটি হিমাগারে রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া লাশ দেশে আনা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মত সাঈদকে এক নজর দেখতে চায়।’ এ ব্যাপারে তারা সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।