ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ বছ‌রের গুম-খুন-কান্না, রিমান্ড অত‌্যাচার সহ্য ক‌রে‌ছি: পার্থ একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই: আবু সাঈদের বাবা ‘ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন’:মির্জা আব্বাস সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ গরিবের টিন-কম্বল কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না : মুফতি ফয়জুল করিম রাজধানীতে আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি: নাহিদ হেলমেট না থাকায় ‘সেনাসদস্যের মারধরে’ যুবকের মৃত্যু

চীনের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ পম্পেওর

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শাসনকালের শেষ দিনেও বিতর্ক তৈরি করল ট্রাম্প প্রশাসন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চীনের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ আনলেন। তার বক্তব্য, চীন উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যা করছে। বাইডেনের টিম অবশ্য এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের আমলে বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মঙ্গলবার পম্পেওর মন্তব্য সেই কফিনে শেষ পেরেক বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।

এর আগেও উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছে অ্যামেরিকা। শিনজিয়াং প্রদেশের বেশ কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নও উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের অত্যাচারের প্রসঙ্গ একাধিকবার সামনে এনেছে। কিন্তু এই প্রথম ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলো। খবর ডয়চে ভেলের

পম্পেও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকে শিনজিয়াং প্রদেশে লাগাতার গণহত্যা চালাচ্ছে চীন। লাখ লাখ মানুষকে বন্দি করা হচ্ছে। তাদের ধর্মাচরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু উইঘুর নয়, আরো বেশ কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সঙ্গে একই আচরণ করা হচ্ছে। নাম না করলেও তিনি যে তিব্বতে বৌদ্ধদের সঙ্গে চীনের আচরণের কথা বলতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট।

করোনাকালে চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ হয়। ট্রাম্প-পম্পেওর চীনবিরোধী নীতি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিচ্ছিল। অনেকরই ধারণা, বাইডেন ট্রাম্পের মতো কঠিন অবস্থান নেবেন না। তবে ট্রাম্পের নীতি থেকে তিনি একেবারে সরেও আসতে পারবেন না। চীন বিষয়ে যেকোনো অবস্থান নেওয়া সময়েই ট্রাম্পের নীতিগুলি সামনে চলে আসবে। বস্তুত, সে কারণেই পম্পেও সরকারি ভাবে চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত করে রাখলেন বলে কোনো কোনো মহল মনে করছে। চীন নিয়ে বাইডেন নরম অবস্থান নিতে গেলে এই নথিটি সামনে চলে আসবে।

চীন অবশ্য পম্পেওর বিবৃতি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের প্রশ্নের মুখে এ বিষয়ে মুখ খুলেছিল চীন। জানিয়েছিল, উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়, তা ঠিক নয়। যদিও চীন থেকে পালানো উইঘুর মুসলিমদের অনেকেই অত্যাচারের কথা বর্ণনা করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ পম্পেওর

আপডেট সময় ০১:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শাসনকালের শেষ দিনেও বিতর্ক তৈরি করল ট্রাম্প প্রশাসন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চীনের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ আনলেন। তার বক্তব্য, চীন উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যা করছে। বাইডেনের টিম অবশ্য এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের আমলে বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মঙ্গলবার পম্পেওর মন্তব্য সেই কফিনে শেষ পেরেক বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।

এর আগেও উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছে অ্যামেরিকা। শিনজিয়াং প্রদেশের বেশ কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নও উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের অত্যাচারের প্রসঙ্গ একাধিকবার সামনে এনেছে। কিন্তু এই প্রথম ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলো। খবর ডয়চে ভেলের

পম্পেও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকে শিনজিয়াং প্রদেশে লাগাতার গণহত্যা চালাচ্ছে চীন। লাখ লাখ মানুষকে বন্দি করা হচ্ছে। তাদের ধর্মাচরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু উইঘুর নয়, আরো বেশ কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সঙ্গে একই আচরণ করা হচ্ছে। নাম না করলেও তিনি যে তিব্বতে বৌদ্ধদের সঙ্গে চীনের আচরণের কথা বলতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট।

করোনাকালে চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ হয়। ট্রাম্প-পম্পেওর চীনবিরোধী নীতি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিচ্ছিল। অনেকরই ধারণা, বাইডেন ট্রাম্পের মতো কঠিন অবস্থান নেবেন না। তবে ট্রাম্পের নীতি থেকে তিনি একেবারে সরেও আসতে পারবেন না। চীন বিষয়ে যেকোনো অবস্থান নেওয়া সময়েই ট্রাম্পের নীতিগুলি সামনে চলে আসবে। বস্তুত, সে কারণেই পম্পেও সরকারি ভাবে চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত করে রাখলেন বলে কোনো কোনো মহল মনে করছে। চীন নিয়ে বাইডেন নরম অবস্থান নিতে গেলে এই নথিটি সামনে চলে আসবে।

চীন অবশ্য পম্পেওর বিবৃতি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের প্রশ্নের মুখে এ বিষয়ে মুখ খুলেছিল চীন। জানিয়েছিল, উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়, তা ঠিক নয়। যদিও চীন থেকে পালানো উইঘুর মুসলিমদের অনেকেই অত্যাচারের কথা বর্ণনা করেছেন।