ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি বাংলাদেশে নীতির অনিশ্চয়তা আমাদের ভয়ের কারণ: ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত চবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় আট শিশু নিহত এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে হাতুড়ির টোকায় বর্তমান স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন কঠিন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

করোনায় মারা গেলেন ঢাবির সাবেক অধ্যাপক ও দার্শনিক ড. হাসনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের সাবেক সভাপতি ও অধ্যাপক ড. হাসনা বেগম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে তার মেয়ে ঢাবির চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম বলেন, আমার মা আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাকে আজ (মঙ্গলবার) বিকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দার্শনিক ও নারীবাদী লেখক অধ্যাপক ড. হাসনা বেগম ১৯৩৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান (১৯৬৮) ও স্নাতকোত্তর (১৯৬৯) ডিগ্রি লাভ করেন। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের তত্ত্বাবধানে নীতিদর্শন বিষয়ে পিএইচডি (১৯৭৮) ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ছিলেন পিটার সিঙ্গারের প্রথম পিএইচডি শিক্ষার্থী। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল ম্যুরের নীতিবিদ্যা তত্ত্ব ও প্রয়োগ। হাসনা বহুপ্রজ লেখক এবং দর্শনের কিছু চিরায়ত গ্রন্থের বাংলা অনুবাদও সম্পন্ন করেছেন ড. হাসনা।

হাসনা বেগম ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের রোকেয়া চেয়ার পদে নিয়োগ পান। তিনি বায়োএথিকস নামক জার্নালের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বায়োএথিকসের (IAB) বোর্ড সদস্য ছিলেন। তিনি ইউবায়োস জার্নাল অব এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বায়োএথিকসের (EJAIB) সম্পাদনা পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি চার মেয়ে ও এক সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি

করোনায় মারা গেলেন ঢাবির সাবেক অধ্যাপক ও দার্শনিক ড. হাসনা

আপডেট সময় ০১:০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের সাবেক সভাপতি ও অধ্যাপক ড. হাসনা বেগম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে তার মেয়ে ঢাবির চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম বলেন, আমার মা আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাকে আজ (মঙ্গলবার) বিকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দার্শনিক ও নারীবাদী লেখক অধ্যাপক ড. হাসনা বেগম ১৯৩৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান (১৯৬৮) ও স্নাতকোত্তর (১৯৬৯) ডিগ্রি লাভ করেন। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের তত্ত্বাবধানে নীতিদর্শন বিষয়ে পিএইচডি (১৯৭৮) ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ছিলেন পিটার সিঙ্গারের প্রথম পিএইচডি শিক্ষার্থী। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল ম্যুরের নীতিবিদ্যা তত্ত্ব ও প্রয়োগ। হাসনা বহুপ্রজ লেখক এবং দর্শনের কিছু চিরায়ত গ্রন্থের বাংলা অনুবাদও সম্পন্ন করেছেন ড. হাসনা।

হাসনা বেগম ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের রোকেয়া চেয়ার পদে নিয়োগ পান। তিনি বায়োএথিকস নামক জার্নালের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বায়োএথিকসের (IAB) বোর্ড সদস্য ছিলেন। তিনি ইউবায়োস জার্নাল অব এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বায়োএথিকসের (EJAIB) সম্পাদনা পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি চার মেয়ে ও এক সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।